পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে শাল্লার চার গ্রাম!

village

নিউজ ডেস্কঃ শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় মামলার পর গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে চার গ্রাম। এতে করে ওই গ্রামগুলোর নারী ও শিশুরা খাদ্যের অভাব এবং রাতে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুলের করা মামলায় ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৪/১৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে পুলিশের করা মামলায় অজ্ঞাত দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরুষশূন্য এসব গ্রামে বেশির ভাগই রিকশা শ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যানচালক, জেলে ও বর্গাচাষী। অক্ষরজ্ঞানহীন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তারা দিন আনে দিন খায়। হতদরিদ্র এসব পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন নারী ও শিশুরা।

খাবারের অভাব, ভয় আর আতংক নিয়ে মানবেতর দিনানিপাত করছে ওই গ্রামগুলোর কয়েক হাজার নারী ও শিশু। কথা বলতে গেলেই তারা বিলাপ করে কাঁদছেন। এক ফসলি বোরো জমির ধান পাকতে শুরু করেছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে শুরু হবে ধান কাটা।

দুশ্চিন্তা ভর করেছে হাওরের বোরো ফসল ঘরে ওঠানো নিয়ে। গ্রামের মসজিদগুলোতে আজান দেয়া কিংবা কেউ মারা গেলে দাফন করার লোক খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, উল্লেখ্য, হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে শাল্লার নোয়াগাও গ্রামের ঝুমন দাস আপন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কটুক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করে। পরে এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা মন্তব্য এবং এক পর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ঝুমন দাস আপনের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়। ১৬ মার্চ গভীর রাতে ঝুমন দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরদিন ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁও গ্রামের পার্শ্ববর্ত কয়েকটি গ্রামের কিছু লোকজন স্বাধীন মেম্বার তার সহযোগী পক্কন মিয়ার নেতৃত্বে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালিয়ে কিছু ঘরবাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এমন কথা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদেও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয়। অবশ্য জেলা যুবলীগ দাবি করেছে, স্বাধীন যুবলীগের কেউ না।

এ ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অজ্ঞাত দেড় হাজার মানুষকে বিবাদী করে মামলা করায় গ্রেফতার আতঙ্কে চার গ্রামের পুরুষরা গ্রাম ছেড়ে চলে যান। মামলার আলোচিত আসামি যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি ও বর্তমান মেম্বার শহীদুল ইসলাম স্বাধীনকে গ্রেফতার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।

  •  
  •  
  •  
  •