গোপনে বিয়ে করেছেন ‘শিশুবক্তা’ মাদানীও!

Rafikul-Islam999Madani

নিউজ ডেস্কঃ রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে র‌্যাব ‘শিশুবক্তা’ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে নেত্রকোনা থেকে আটক করেছে। তাকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

র‌্যাবের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে। প্রাথমিকভাবে তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু পর্ন ভিডিও পাওয়া গেছে তার ব্যবহৃত ফোনে।

এমনকি তার বিয়ে নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। আসমা বেগম নামে যে নারীকে বিয়ে করেছেন বলে তার যে দাবি, তা নিয়েও পাওয়া গেছে নানা তথ্য। সামাজিকভাবে রফিকুলের সঙ্গে বিয়ে হয়নি ওই নারীর।

র‌্যাবের হাতে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই রফিকুল জানিয়েছেন, ‘স্যার আমার হুঁশ ছিল না। জোসের কারণে বলে ফেলেছি। বেহুঁশে থাকলে অনেকে তো অনেক কিছুই বলে ফেলে।’ তবে ভবিষ্যতে তিনি আর এমনটা করবেন না বলে আকুতি জানান রফিকুল।

তার মোবাইল তল্লাশি করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে মাওলানা রফিকুল গত ২০১৯ সালের শেষের দিকে হালুয়াঘাটের আসমা আক্তার নামে এক নারীকে গোপনে বিয়ে করেছেন বলে জেনেছে র‍্যাব। আসমা আক্তার তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী পারভীন আক্তারের চাচাতো বোন। ওই গোপন বিয়ের অন্যতম একজন স্বাক্ষী ছিলেন পারভীন। রফিকুল এবং আসমার ওই বিয়েরও কোনো রেজিস্ট্রি হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার তিনি আসমাকে বিয়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দেখতে যাতে যান। তবে পাত্রীর বাবা-মা’র পছন্দ হয়নি রফিকুলকে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের জন্য আসমাকে দেখতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার পর ফেসবুক মেসেঞ্জারে আসমাকে তিনি লিখেছেন, ‘প্রয়োজনে তোমার জন্য ১০ বছর অপেক্ষা করব।’

মাদানীকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে নেত্রকোনা প্রেস ক্লাব ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা মাদানীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করে বলেন, তাকে মুক্তি না দেওয়া হলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের মোদিবিরোধী মিছিল থেকে রফিকুল ইসলামকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

  •  
  •  
  •  
  •