করোনা ভাইরাস কেন দ্রুত ছড়ায়

ড. মো. শফিউল্লাহ পারভেজ

বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসের একটি মূল বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছেন। এ ভাইরাসের কোষ প্রাচীরে (সেল ওয়ালে) একটি প্রোটিন থাকে যেটাকে Spike Protein বলা হয়। এই প্রোটিন ভাইরাসকে হোস্ট এর সেল (মানুষের শরীরে) এর সাথে সংযুক্ত হতে সাহায্য করে। এই স্পাইক প্রোটিন অন্য করোনা ভাইরাস যেমন সার্স করোনা এবং মার্স করোনা ভাইরাসেও পাওয়া যায়।

সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, সার্স করোনা ভাইরাস কিংবা মার্স করোনা ভাইরাস এর চেয়ে নবেল করোনা ভাইরাস (COVID-19) বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন, এর স্পাইক প্রোটিনে একটা ফিউরিন (Furin) সক্রিয়করণ স্থান (এক্টিভেশন সাইট) আছে যেটা অন্য করোনা ভাইরাসে নাই। তাই নবেল করোনা ভাইরাস অন্য করোনা ভাইরাস থেকে আলাদা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ফিউরিন হচ্ছে একটা এনজাইম, যেটা মানুষের শরীরের কোষ থেকে নির্গত হয়।  এই এনজাইম ফুসফুস, যকৃত ও অন্ত্রে বেশি থাকে ফলে নতুন এই করোনা ভাইরাস ফুসফুস এ আক্রমন করছে এবং যকৃত তার কার্যকারীতা হারিয়ে ফেলছে সাথে ডায়রিয়া করছে।

 

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেও (সাধারণ জ্বর সৃষ্টিকারী ভাইরাস) ফিউরিন সক্রিয়করণ স্থান আছে, যেটা বেশি প্যাথোজেনিক (রোগসৃষ্টিকারী) ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের haemagglutinin প্রোটিনে থাকে। তাই এই ভাইরাসও  দ্রুত ছড়িয়ে যেতে পারে। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ফিউরিন সক্রিয়করণ স্থান নবেল করোনা ভাইরাসের মতো নয় এবং সব ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে ফিউরিন সক্রিয়করণ স্থান থাকেনা।

অন্য একদল বিজ্ঞানী তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, নবেল করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন মানব কোষের একটি রিসেপ্টরের সাথে সংযুক্ত হয় যেটা angiotensin-converting enzyme 2 (ACE2) হিসাবে পরিচিত এবং নবেল করোনা ভাইরাসের এই ACE2 সার্স কিংবা মার্স করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন এর চেয়ে কমপক্ষে দশগুণ বেশি শক্তিশালী।

বিজ্ঞানীরা ফুরিন এক্টিভেশন সাইট কে টার্গেট করে ড্রাগ আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। গবেষণায় সফলতা আসলে ভয়ানক এই করোনাকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে বলে গবেষকরা আশাবাদী।

লেখকঃ ড. মো. শফিউল্লাহ পারভেজ
লেকচারার, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ
গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা

  •  
  •  
  •  
  •