উপসর্গের আগেই মুখের লালায় করোনা পাওয়া যায়- ড. বিজন

করোনা ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর উপসর্গ বা লক্ষণ প্রকাশ হবার আগেই তার লালায় ভাইরাস পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন ড. বিজন কুমার শীল। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই গবেষক যে জি র‍্যাপিড ডট ব্লট কিট উদ্ভাবন করেছেন তা দিয়েই অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন রক্ত থেকে শনাক্ত করার জন্য। সম্প্রতি তিনি স্যালাইভা থেকেও এই ভাইরাস শনাক্ত করতে পেরেছেন। তিনি বলেন ”এর মাধ্যমে অতি দ্রুত আমরা শনাক্ত করতে পারছি। দেখা গেছে রোগীর উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই তার স্যালাইভাতে ভাইরাস পাওয়া গেছে। যার কারণে আমরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলকে অনুরোধ করেছি, স্যালাইভা পদ্ধতিতে পরীক্ষার কিট ট্রায়ালের জন্য নিতে। আমরা তাদের কিট দিয়েছি এবং স্যালাইভা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় কন্টেইনার, যেটা তাদের কাছে ছিল না, সরবরাহ করেছি।”

তিনি বলেন বিশ্বে দুইটি দেশে অ্যান্টিজেন কিট অনুমোদন পেয়েছে। একটি যুক্তরাষ্ট্রে এবং অপরটি জাপানে। জাপানের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন তারা ভবিষ্যতে স্যালাইভার বিষয়ে ভাববেন। কিন্তু, তার আগেই আমরা স্যালাইভা পরীক্ষা করে ফেললাম। এর মাধ্যমে বেশ ভালো ফলাফল আমরা পেয়েছি।”

তিনি জানান যে আমাদের কিট দিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনা আমি শনাক্ত করা হয়েছে। আমাদের কিট দিয়ে গত ২৬ মে আমরা পরীক্ষা করি। ২৭ মে তিনি পিসিআর পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিট উদ্ভাবনের ঘোষণা পৃথিবীতে প্রথম দিয়েছিলেন- ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র পরে ঘোষণা দিলেও আগে বাজারে নিয়ে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কিটের অনুমোদন দিয়েছে।

ড. বিজন কুমার শীল বলেন ”আমরা এর জন্য পেটেন্ট ফাইল করেছি। যদি অন্য কেউ এটা করতে চায়, তাহলে তার জন্য আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে”।

এছাড়া ও তিনি বলেন-

  • জাপান যে পরীক্ষার কথা ভাবছে, আমরা তা করে ফেলেছি।
  • অনুমোদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তিন বছরকে তিন দিনে নামিয়ে এনেছে।
  • গণস্বাস্থ্যের কিটের পরীক্ষায় সাফল্যের হার ৯০ শতাংশের বেশি।
  • আমরা যে কিট উদ্ভাবন করেছি, তা ডা. জাফরুল্লাহ স্যার ছাড়া সম্ভব হতো না।
  • করোনার ভ্যাকসিন আসতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে।
  • বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ হয়তো আক্রান্ত হয়েছেন।

ড. বিজন কুমার শীলের কিট এখনো অনুমোদন পায়নি, তবে তিনি পেয়েছেন মানুষের ভালোবাসা।

  •  
  •  
  •  
  •