দেশে করোনার চেয়েও বেশি মৃত্যু হৃদরোগে!

heart attack

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম কারো মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। মার্চ ২০২০ থেকে এ পর্যন্ত এক বছরে করোনায় মারা গেছেন সাড়ে আট হাজারের মতো। এর মধ্যে ২০২০ সালে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৮ হাজার ৪৯৬ জন।

তবে বাংলাদেশে করোনা মহামারির আতঙ্কের মধ্যেও বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় জরিপ অনুযায়ী- হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালে ২ লাখ ২৪ হাজারের বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে অসংক্রামক রোগে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ আর কিছু রোগ।

জরিপ অনুযায়ী, ২০২০ সালে শুধু হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন ১ লাখ ৮০ হাজারের অধিক মানুষ; যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। অনুরূপভাবে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা গেছেন ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ; যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৮৮ শতাংশ।

এছাড়া, আট রকমের ক্যান্সারে মারা গেছেন ৮৩ হাজার (বৃদ্ধির হার ৩২ শতাংশ), শ্বাসতন্ত্রের রোগে মারা গেছেন ৭৪ হাজার (বৃদ্ধির হার ৩৬ শতাংশ) আর কিডনি রোগে মারা গেছেন ২৮ হাজারের বেশী মানুষ। কিডনি রোগে মৃত্যুর হার বেড়েছে ১৬৪ শতাংশ।

নানা সামাজিক অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা, করোনাকালীন জীবনযাত্রার ধরন পাল্টে যাওয়া, চর্বি জাতীয় খাদ্য বেশী গ্রহণ, কায়িক শ্রম না করা, খাদ্যে ভেজাল ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাবার বা জাঙ্কফুড গ্রহণ- এসব কারণে এ জাতীয় অসংক্রামক রোগের প্রকোপ এবং মৃত্যু বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ। তাছাড়া ধূমপানও এ জাতীয় অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও অধিক সংখ্যক অসংক্রামক রোগে ভুগে মারা যাচ্ছেন। এ ব্যাপার স্বাস্থ্য সম্মত ও সুশৃংখল জীবনযাপনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবার মানও বাড়াতে হবে।

সূত্রঃ পার্সটুডে

  •  
  •  
  •  
  •