কেন সর্বোচ্চ টিকা গ্রহনকারী দেশে বাড়ছে করোনার প্রকোপ?

এস এম আবু সামা আল ফারুকীঃ সর্বোচ্চ টিকাদানকারী দেশেই আবারো বাড়ছে করোনা। টিকার কার্যকারীতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সিশেলস, ভারত মহাসাগরের মাদাগাস্কার থেকে উত্তর পূর্বে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা গঠিত দেশটি করোনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ টিকা দানকারী দেশ। দেশটির শতকরা ৭১ শতাংশ মানুষ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছে যার মধ্যে ৬২ শতাংশ পরবর্তী ডোজও সম্পূর্ণ করেছে। এদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ সিনোফার্মের এবং ৪৭ শতাংশ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহন করেছে।

কিন্তু তারপরও দেশটির ৩৭ শতাংশ মানুষ নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে যার ভেতরে ২০ শতাংশেরই সম্পূর্ণ টিকার কোর্স করা ছিল। এই ঘটনার কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে ৬২ শতাংশ টিকাদান হার্ড ইমিউনিটি তৈরির জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়াও সিশেলসে টিকা প্রতিরোধী নতুন করোনাভাইরাসের ধরণের সন্ধান মিলেছে। এই ধরণগুলোর মধ্যে ভারতীয় ও আফ্রিকান ধরণ উল্লেখযোগ্য। টিকা পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অভাবে টিকার কার্যক্ষমতাও নষ্ট হচ্ছে।

কিন্তু টিকা প্রতিরোধী ধরণ, টিকার কার্যক্ষমতা ও হার্ড ইমিউনিটি এর মধ্যে সম্পর্ক কি?

গবেষণায় দেখা গেছে আফ্রিকান বি.১.৩৫১ ধরণটি হল টিকার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকরী ধরণ। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এর বিরুদ্ধে মাত্র ১০ শতাংশ কার্যকরী।
যুক্তরাজ্যের বি১১৭ ধরণটি বেশি সংক্রামক এবং যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তবে ফাইজার এবং মডার্নার টিকা দ্বারা এই ধরণের আক্রমণ অনেকাংশে কমানো গেছে।

যুক্তরাজ্যে ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দ্বারা ৫০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে যার মধ্যে ৩০ শতাংশ সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করেছে। এখানেও উল্লেখযোগ্য হারে করোনার প্রকোপ কমেছে।

কিন্তু যুক্তরাজ্যের উত্তর দক্ষিণাঞ্চলে হঠাৎ করে করোনা বাড়তে শুরু করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে এর অধিকাংশই হল ভারতীয় ধরণে সৃষ্ট করোনা। এই ভ্যারিয়েন্টের কারণে করোনাকে প্রায় নিয়ন্ত্রণে আনা সিঙ্গাপুরে নতুন করে রোগ বাড়ছে।

সুতরাং সিশেলসে এখন করোনার ভ্যারিয়েন্ট বের করে সেই অনুসারে টিকা নির্বাচন করতে হবে। ফাইজারের টিকাটি দক্ষিন আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ৭৫ শতাংশ কার্যকরী বলে প্রমানিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় কিরবি ইন্সটিটিউশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে কোনো টিকা যদি ৯০ শতাংশ কার্যকরী হয় তবে ৬০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি সম্ভব। কম কার্যকরী টিকা তাই বেশি মানুষকে প্রয়োগ করে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি সম্ভব। টিকা যদি ৬০ শতাংশ কার্যকরী হয় তবে প্রায় সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এর নিচে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন সম্ভব নয়।

তবে এই পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে ২০২০ সালে বিস্তার লাভ করা ডি৬১৪জি ধরণের উপর ভিত্তি করে যার বিস্তার সূচক হল ২.৫ যার অর্থ এই ধরণে আক্রান্ত মানুষ থেকে গড়ে ২.৫ জন এই রোগে আক্রান্ত হবে। কিন্তু বর্তমান বি১১৭ এর বিস্তার সূচক হল ৪.১৭ এবং ভারতে বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী ভ্যারিয়েন্টের সূচক ৭ এর উপরে। এ কারণে করোনার বিস্তার রোধে অধিক কার্যক্ষম টিকার বিকল্প নেই। যত দ্রুত অধিক কার্যকরী টিকা দ্বারা সবাইকে টিকার আওতায় আনা যাবে, করোনার নতুন ধরণকে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা তত দ্রুত সম্ভব হবে বলে মনে করছেনঅ বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রঃ দ্য কনভারসেশন

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , , , , ,