অ্যান্টিবডি প্রস্তুতিতে ভারতের প্রথম সফলতা; সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলেন কোভিড-আক্রান্ত বৃদ্ধ

করোনা ডেস্কঃ

কোভিড আক্রান্তের চিকিৎসায় প্রথমবার ব্যবহৃত হল ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’। পরীক্ষাগারে তৈরি ওই অ্যান্টিবডি সংমিশ্রণ শরীরে প্রয়োগ করে এক অশীতিপর রোগীকে সুস্থ করে তুললেন ভারতের হরিয়ানার একটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

গত বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ওই রোগী। তাঁর শরীরে একাধিক রোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালের চেয়ারম্যান নরেশ ট্রেহান।

‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ অর্থাৎ গবেষণাগারে তৈরি ওষুধের সংমিশ্রণ শরীরে অ্যান্টিবডির বিকল্প হিসেবে কাজ করে। কোভিড আক্রান্তের শরীরে প্রবেশ করে তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তোলে এই ওষুধ। গত বছর করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর চিকিৎসায় এই ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ প্রয়োগ করা হয়েছিল। আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্নদেশে এই ওষুধের প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি। করোনা শনাক্তের প্রথম সাত দিনের মধ্যে এই অ্যান্টিবডি শরীরে প্রয়োগ করা হলে ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের আর হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয় না, জানাচ্ছেন ট্রেহান।

হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ প্রয়োগের ফলে রোগীর শরীরে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা হবে। কোভিড আক্রান্তের শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ অনেক বেশি হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম এই ওষুধ। একেবারে প্রাথমিক স্তরেই ‘ক্যাসিরিভিম্যাব’ এবং ‘ইমডেভিম্যাব’ ওষুধ শরীরে প্রয়োগ করা হলে তা রোগীর কোষে ভাইরাসকে ঢুকতে বাধা দেয়। করোনাভাইরাসের বি.১.৬১৭ প্রজাতিতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় এই ওষুধ বেশ কার্যকর, বলছেন ট্রেহান।

করোনা গবেষণায় আশার আলো দেখাতে পারে এই পদ্ধতি এবং ভারতে করোনা সংক্রমণের হার কমাতেে ও রোগীর সুস্হতায় এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3