বরিশালের আগৈলঝাড়া শুটকি পল্লীর দুর্দিন

বরিশাল সংবাদদাতা:

মৎস্য অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বিল বাওড় ঘেরা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা। এ অঞ্চলের শত শত পরিবার শুটকি ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে শুটকির দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়ছেন এখানকার মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার পয়সারহাট-ত্রিমুখী নদীর উপকূল এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠেছে শুটকি পল্লী। এ অঞ্চলের সুস্বাদু মিঠা পানির নানা প্রজাতির মাছ সমগ্র দেশে সরবরাহ হয়। মাছ ধরা পেশার সাথে জড়িত দরিদ্র পরিবারগুলো অধিক লাভের আশায় বছরের আশ্বিন মাসের প্রথম থেকে ছয় মাস শুটকির কাজ পেশা হিসেবে বেছে নেয়।
প্রায় একযুগ পূর্বে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠে পয়সারহাট-রাজাপুর-ত্রিমুখী-রাজিহারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুটকি পল্লী। শুঁটকি তৈরীতে বিভিন্ন প্রকার মাছের মধ্যে পুঁটি, শৌল, টেংরা, খলিশা, পাবদা, কৈ, শিং, মাগুর, মেনি, ফলি উল্লেখযোগ্য।

ব্যবসায়ী মন্মথ রায়, সেকেন্দার চৌকিদার, অশোক রায়, সোবহান মিয়া, দিলীপ অধিকারী, জয়নাল চৌকিদার, অবনী রায়, মঙ্গল অধিকারী, নরেশ তালুকদার বলেন, বাজার থেকে একমণ কাঁচামাছ কিনে শুকালে ১৫-১৬ কেজি শুটকি তৈরি হয়। বর্তমানে প্রতিমণ কাঁচা পুঁটি মাছ ক্রয় করতে হয় ১৫শ’ টাকা, তিনমণ কাঁচা মাছ শুকালে একমণ শুটকি তৈরী হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৪হাজার ৬শ’ টাকা। গত বছর একমণ শুটকি পুঁটি মাছ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। এবছর সেই শুটকি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ কাঁচা মাছ তাদের পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ বেশ দামে কিনতে হচ্ছে।

ওই পল্লীর মাছ কাটার কাজে নিয়োজিত রাজাপুর গ্রামের সন্ধ্যা অধিকারী, আয়না বেগম, পপি অধিকারী, শোভা রানী জানান, বছরে ৬ মাস মাছ কাটার সাথে নিয়োজিত থাকলেও বাকি ৬ মাস অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। তারা আরও জানান, ছেলে-মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া করছে। মাছ কেটে যা আয় করি তা দিয়ে বহুকষ্টে জীবনযাপন করছি।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে শুকনা মৌসুমের শুরুতে মাছ বেশি পাওয়া গেলেও মাঝামাঝি সময়ে বিলে মাছ কম থাকায় তাদের দু:খ-দুর্দশা বেড়ে যায়। শুঁটকি ব্যবসায়ী পয়সার হাটের মন্মথ রায় জানান, সরকারীভাবে সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় প্রতিবছরই আমাদের দেনাগ্রস্থ হতে হচ্ছে। শুটকি পল্লীর সাথে জড়িত মৎস্যজীবিরা সরকারের কাছে সাহায্যের পরিবর্তে সহজ শর্তে ঋণ আশা করছে।

Comments

comments