এডওয়ার্ড উলসন থিওরী ভুল প্রমান করলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর- এর প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আহাদ আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এডওয়ার্ড উলসন থিওরী Sociobiology ভুল প্রমান করেছেন (এটা তার পঞ্চম আবিস্কার)।

সোসিওবায়োলজি বিবর্তনের সর্বাধুনিক থিয়োরী। ড. আব্দুল আহাদ দাবী করেন তিনি পৃথিবীর একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি জীববিজ্ঞানের থিওরী ভুল প্রমান করে সান্টিফিক জার্নালে প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছেন। কারন এ পর্যন্ত পৃথিবীর আর কোন বিজ্ঞানীর জীববিজ্ঞানের থিওরী ভুল প্রমান করে সান্টিফিক জার্নালে প্রকাশ করতে সামর্থ হন নাই। তার প্রবন্ধটি আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়া থেকে World of Researches পাবলিসার কতৃক প্রকাশিত ‘Academic Journal of Psychological studies‘ (DOI 10.20286) Vol.3 no.7 (সেপ্টেম্বর)/ঢ় ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটি Thomson Reuters এর এবং cross Ref, Orchid No আছে।

প্রকাশিত প্রবন্ধটি দেখতে চাইলে ক্লিক করুন

ড. আব্দুল আহাদ তার প্রবন্ধে সর্বাধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের তথ্য দ্বারা এই থিওরী ভুল প্রমান করেছেন এবং দেখিয়েছে যে, Sociobiology বির্বতনের থিওরী নয়, তবে কীটবিজ্ঞানের একটি শাখা যা সামাজিক কীটপতঙ্গ নিয়ে আলোচনা করে এবং এটি তার প্রবন্ধের শিরোনাম।

এডওয়ার্ড উলসন ১৯৭৫ সালে Sociobiology: The New Synthesis নামক ৬৯৭ পৃষ্ঠার বই প্রকাশের মাধ্যমে এই থিওরী জন্ম লাভ করে এবং বিশ্বব্যাপি তোলপার শুরু হয়। ১৯৭৫ সাল হতে এই থিওরী জীববিজ্ঞান, বংশগতিবিদ্যা, বিবর্তনবিদ্যা, সামাজিকবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, অ্যাথ্রোপলজি, বিহ্যাভিওরাল ইকোলজি, কালচারাল ইকোলজিসহ প্রায় ১৫টি সাবজেটে প্রভাব বিস্তার করে আছে। এই থিওরীর মুল বিষয়বস্তু ব্যবহার বংশগতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং ব্যবহার পরিবর্তনের ফলে নতুন প্রজাতি উৎপত্তি লাভ করে।

wilson10-1

প্রফেসর এডওয়ার্ড উলসন এর Sociobiology

ড. আব্দুল আহাদ ১৩ পৃষ্ঠায় প্রবন্ধে সর্বাধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের তথ্য দ্বারা তার সামান্য সংক্ষিপ্ত যুক্তিগুলো হলো- ব্যবহার যদি বংশগতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না; যদি হতো তবে বিভিন্ন দেশের সরকার ও এনজিও সংস্থা মানুষের আচার ব্যবহারে কাঙ্খিত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চালাচ্ছে তা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তিনি আরও যুক্তি দেখিয়েছেন উল্লিখিত যে সকল সাবজেকটে এই থিওরী প্রভাব বিস্তার করে আছে, তা ঐ সাবজেকট-এর বিশেষজ্ঞগণ এই থিওরীর চরম বিরোধী। ইউলসন আরও দাবী করেন তার থিওরী ডারইউনের প্রাকৃতিক নির্বাচন ও নব্য ডারউইন বাদ বা নিওডারউইনিজম (ডারইউনের প্রাকৃতিক নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নতুন সংস্কার) এর ভিত্তি।

ড. আব্দুল আহাদ প্রমাণ করেছেন, Sociobiology থিওরী এ দুটি থিওরীর বিপরীত প্রান্তে বা মেরুতে অবস্থান করে, এই থিওরী সাথে, এ দুটি থিওরীর কোন ধরনের সর্ম্পক নেই।

এছাড়া সমগ্র পৃথিবীতে সোসিওবায়োলজির একটি মাত্র জার্নাল আছে (Sociobiology Journal), যা ক্যালিফোরনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি হতে ১৯৭৫ সাল হতে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে (বর্তমানে এটি ব্রাজিল হতে প্রকাশিত হয়) হয়। এই জার্নালের ৪টি সম্পাদকীয় বিভাগ রয়েছে যথাঃ পিঁপিলিকা, মৌমাছি, উঁইপোকা ও বোলতা বিভাগ জার্নালটির সামাজিক পতঙ্গ ছাড়া অন্য কোন জীবের প্রবন্ধ ছাপে না।

২০১৩ সালে বিশেষ সম্পাদকীয় বক্তব্যে বলা হয়েছে যে, জার্নালটি সামাজিক কীটপতঙ্গ ও উদ্ভিদের সাথে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিয় প্রবন্ধ প্রকাশ করে বা আলোচনা করে। ১৯৭৫ সাল হতে এ পর্যন্ত জার্নালে একটিও বিবর্তন সম্পর্কিত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়নি। জার্নালটির বিশেষ সম্পাদকীয় বক্তব্য, জার্নালটির সব কয়টি বিভাগ সামাজিক পতঙ্গ গঠিত। এই সব বিচার হতে প্রমানিত যে, সোসিওবায়োলজি বিবর্তনের থিয়োরী না, এটি কীটতত্ত্বের একটি শাখা যা সামাজিক কীটপতঙ্গ নিয়ে আলোচনা করে। এডওয়ার্ড উলসন একজন কীটতত্ত্ববীদ।

জার্নালটির ৩৩ জন বিভাগীয় সম্পাদকের মধ্যে ২৩ জনই ব্রাজিলের ২ জন আমেরিকার এবং ৪ জন সহযোগী সম্পাদকে সবই ব্রাজিলের এবং আমেরিকার পরিবর্তে জার্নালটি বর্তমানে ব্রাজিল হতে প্রকাশিত হয়। এ হতে বিশ্বাস করা যায় যে, আমেরিকানরা সোসিওবায়োলজির থিয়রী সমর্থন করেন না। প্রবন্ধটি শিরোনাম “Sociobiology is Not a Theory of Evolution but a Branch of Entomology, which Deals with Social Insects” দ্বারা Google এ search করলে বা Click www.researchgate.net/…/266794006_Sociobiology_is_Not ও Click করলে ajps.worldofresearches.com/archive12.html, website-এ প্রবন্ধটি পাওয়া যাবে।

প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আহাদ এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
নাম: প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আহাদ, পিতা- মরহুম আব্দুল খালেক সরদার, মাতা- মরহুমা সরবানু বিবি, গ্রাম ও পোস্ট-কাদাকাটি, থানা- আশাশুনি, জেলা-সাতক্ষীরা।

Comments

comments