আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা (ভিডিও)

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:
ঠাকুরগাঁওয়ের দিগন্ত জুড়ে আগাম শীতের সবজির সমারোহ। সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক। তাই এখানকার কৃষকরা ধান চাষের পরিবর্তে সবজি চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ঠাকুরগাঁও শহরের খুব কাছাকাছি এ গ্রামের অধিকাংশ লোক কৃষিজীবী। তাদের প্রধান আবাদ শাক-সবজি। আর শাক-সবজি চাষাবাদের জন্যই বেশ পরিচিত এ গ্রাম। স্বাভাবিকভাবেই নারগুনকে ঠাকুরগাঁওয়ের সবজি গ্রাম বলা হয়ে থাকে। আর সবজি গ্রাম হিসেবে নারগুনকে চিনতে কষ্ট হয় না আশপাশের গ্রাম ও জেলাবাসীদের। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয় এখানে চাষ করা নানা নামের শাক-সবজি।

লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, লাউশাক, বুত্তাশাক, দারাশাক, মুলাশাক ও কলমিশাক আর করলা, বেগুন, বরবটির চাষ তুলনামূলক বেশিই হয়ে থাকে এ গ্রামে। এসব চাষ করেই দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পেয়েছে অনেক পরিবার; স্বাবলম্বী হয়েছে। তাই নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে হলেও শাক-সবজি চাষে সফল ও স্বাবলম্বী হতে ব্যস্ত সময় পার করে ক্ষেতে। নারগুন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সারা গ্রাম জুড়ে শুধুই সবজির আবাদ। খামার-ক্ষেতে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণীরা। এখানকার সবজি চাষীরা জানান, তারা বরাবরই শাক-সবজি চাষ করে আসছেন। এতে তারা সফলও। তাদের মতামত, সরকারি সংস্থাগুলো যদি তাদের চাষকৃত শাক-সবজির উৎপাদন বাড়াতে আর একটু সতর্ক নজর রাখে তাহলে আরও সফল ও লাভবান হওয়া সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০ বছর আগে এ গ্রামের কৃষকরা সবজি চাষ শুরু করেন। যাদের কোনো কাজ আর জমি ছিল না কিন্তু অভাব ছিল মাথা সমান তারাই এ আবাদে মন দেন ওই সময়। পরবর্তীতে তাদের সফলতার সিঁড়িতে পা দিয়েছেন অনেক অভাবী যারা এখন স্বচ্ছল; সফল। তাদের চোখের আশার আলোতে উজ্জ্বল এখন নারগুন গ্রাম।

শীত চলে আসছে। সবজির চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি ও চালকুমড়া, ঢেঁড়স, শসা, করলা, ডাটা, মিষ্টি আলু, পটল, কাকরোল, চিঁচিঙ্গা, বড়বটি, গাজর, মুলা, শালগম, কলা, বেগুনসহ নানান জাতের সবজি চাষে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে চাষীরা। ওই এলাকার সবজি চাষি রাশেদ আলম এ বছর ৪০ শতক জমিতে বাঁধাকপি, ৩০ শতক জমিতে ফুলকপি, ৩০ শতক জমিতে বেগুন, ৪০ শতক জমিতে মূলা ও ২০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি বেগুন বিক্রি করতে শুরু করেছেন। একই গ্রামের কৃষক কালাম ৩৩ শতক জমিতে বাঁধাকপি ও ২০ শতক জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছেন।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রৌদ্রে কৃষকরা সবজি ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। দম ফেলার সময় নেই। চাষিরা জানান, গত বছর তারা দাম ভাল পেয়েছেন। তবে এবছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় লাভের সম্ভাবনা কম। শ্রমিক ও কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ার কারণে খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যেই কপি বিক্রি করতে পারবেন।এই তো কদিন আগেও যে সব পতিত জমি পড়েছিল অনাবাদি হিসেবে সেসব জমিতে সোনার সবজি চাষে এখন স্বাবলম্বী আবুল কাশেম (৬০), রকিবুল সরকার (৬৫), আলম (৫৫), সুরুজ মিয়া (৪০), শুকুর আলীকে (৪০) চিনে সফল চাষী হিসেবে।

সফল এই কৃষকরা জানান, নিজেদের মধ্যে সমবায় ভিত্তিতে এবং স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বল্প পুঁজি খাটিয়ে তারা তাদের অভাব দূর করতে পেরেছেন। প্রতি মৌসুমে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পুঁজি খাটিয়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করেছেন বলেও জানান তারা।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রাসারণের উপ-পরিচালক ভুপেস কুমার মন্ডল জানান, কৃষি বিভাগ থেকে আগাম সবজি চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষকরা যেন সহজেই কীটনাশক, বীজ, সার ও উৎপাদন সহায়ক যন্ত্রপাতি পান সেজন্য ব্লক সুপারভাইজাররা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন।

Comments

comments