বাঁশ কোড়ল পাহাড়িদের প্রিয় সবজি

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার উপজাতীয়দের কাছে ঐতিহ্যগতভাবে সবজি হিসেবে বাঁশ কোড়লের কদর বাড়ছে। গজানোর পর চারাগুলো একটা শক্ত আবরণ দিয়ে ঢেকে রেখে সময়ের ব্যবধানে যে নরম অংশ পাওয়া যায় সেটাই হচ্ছে বাঁশ কোড়ল। আবার বাঁশের ছোট চারাও বাঁশ কোড়ল হিসেবে পরিচিত।

বলা যায়, এটা বাঁশের স্বাভাবিক কোড়ল নয়। বরং চারা গজানোর সময় তা মটকা (মাটির বড় পাতিল) দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। কিছুদিন পর বাঁশের চারাগুলো মাটির পাতিলের ভেতর পেচিয়ে পেচিয়ে বেড়ে উঠতে থাকে এবং এক সময় তা দিয়ে পাতিল ভরে যায়। এটা বেশ নয় থাকে। এটাকেই কেটে বাঁশ কোড়ল হিসেবে খাওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদিবাসীদের মেহমানদের আপ্যায়নের পাশাপাশি দৈনন্দিন খাবার তালিকায় সবজি হিসেবে থাকছে বাঁশ কোড়ল। প্রতিকেজি বাঁশ কোড়ল ৩০/৪০ টাকা দরে পাওয়া যায়। ভাজি ছাড়াও মাছ-মাংসে মিশিয়ে রান্না করা বাঁশ কোড়ল তরকারির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এখানে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আদিবাসী পরিবারের পাশাপাশি বাঙালিরাও সবজি হিসেবে বাঁশ কোড়ল খাচ্ছেন।

আদিবাসীদের পাশাপাশি বাঙালিরাও বাঁশ কোড়ল সবজি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দেখা গেছে, রাঙ্গামাটি জেলার বনরূপা, তবলছড়ি, কলেজগেইট বাজারে আদিবাসী বিক্রেতারা থুরং (পিঠে বহনের ঝুড়ি) ভর্তি করে বাঁশ কোড়ল বাজারে এনে বিক্রি করে বাড়িতে ফেরার সময় চাল ও ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

Comments

comments