সুস্থতার জন্য চাই শরীরচর্চা

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
শারীরিক সুস্থতার কথা ভুলে কেবল অতিরিক্ত খেলেই চলবে না। অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি ঝরিয়ে শরীর সুস্থ রাখতে চাই নিয়মিত শরীরচর্চাও। এজন্য যে জিমনেশিয়ামে যেতে হবে এমন নয়। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা খালি হাতে ব্যায়াম করেও ধরে রাখতে পারেন ফিটনেস।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি অনিদ্রা দূর করা এবং হরমোনের সুষম নিঃসরণের জন্যও প্রতিদিন খানিকটা সময় ব্যায়াম করা উচিত। দিনের শুরুতে ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে হালকা ব্যায়াম করে নিতে পারেন। এতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাটবে পুরো দিন। ক্লান্তিও আসবে না সহজে।

দৌড়, হাঁটা, সাইকেল চালানো, দড়িলাফ, সাঁতার- এগুলো সবই ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজের অন্তর্ভুক্ত। নিয়মিত দৌড়ানো বা হাঁটা শরীর ঠিক রাখার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। তবে দৌড়ানোর আগে ভালো করে স্ট্রেচিং করে নিতে পারলে ভালো হয়। ঘাড়, হাত এবং পায়ের মাংসপেশি সবল ও কর্মক্ষম রাখতে স্ট্রেচিং পদ্ধতি বেশ কার্যকর। স্ট্রেচিংয়ের জন্য কোমর থেকে পা পর্যন্ত সোজা রাখুন। তারপর মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পায়ের পাতা স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। তবে জোর করবেন না। কোনও কারণে পায়ের পাতা পর্যন্ত হাত না পৌঁছলে যতটুকু সম্ভব ততটুকু পর্যন্তই রাখুন হাত। স্ট্রেচিং আস্তে আস্তে আলতোভাবে করা উচিত। প্রতিটা স্ট্রেচ ১৫ থেকে ৩০ সেকেণ্ড ধরে রাখুন। এছাড়া পুশআপ পদ্ধতিও প্রয়োগ করতে পারেন। কোমর থেকে পা অবধি না নাড়িয়ে হাত ওপর দিকে তুলে ডানে-বায়ে শরীর এলিয়ে দিয়েও ব্যায়াম করা যায়। এতে মাংসপেশি রিল্যাক্স হবে অনেকটা।

পায়ের মাসলের ব্যায়ামের জন্য প্রথমে একটি পা সামনের দিকে এগিয়ে দিন। এরপর পা সামান্য একটু ভেঙে দুই হাত হাঁটুর ওপর রেখে হালকা ভর দেওয়ার চেষ্টা করুন। হাতের মাসল ঠিক রাখার জন্য সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে বুকডন দেওয়া। তবে এতে শরীরের প্রতিটি পেশীতে প্রচন্ড চাপ পড়ে। তাই শারীরিক সক্ষমতা যাদের আছে তারাই এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।

মনে রাখবেন:
শুরুতেই ভারি ব্যায়াম করতে যাবেন না। কিছুক্ষণ ওয়ার্ম আপ করে শরীর গরম করে নিয়ে তারপর ভারি ব্যায়াম শুরু করুন। এলোপাথাড়ি শরীরচর্চা করবেন না। এতে উল্টো ক্ষতিই হবে। বয়স ও সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে ব্যায়ামের সময় ও ধরন নির্বাচন করুন। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারোর সহায়তা নিন। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করবেন। অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়ার পর ব্যায়াম করা অনুচিত। এতে হাঁসফাঁস লাগতে পারে। এজন্য এক্সারসাইজ শুরু করার বেশ কিছুক্ষণ আগে হালকা খাবার খেয়ে অল্প করে পানি পান করুন। জগিংয়ের সময় বার বার থামবেন না।

একটানা কিছুক্ষণ হেঁটে তারপর বিশ্রাম নিন। ব্যায়ামের সময় ঘন ঘন পানি পান করাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কখনও কড়া রোদে ব্যায়াম করবেন না। খুব ক্লান্ত থাকা অবস্থায়ও শরীরচর্চা করা অনুচিত। এতে পেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরে খানিক্ষন বিশ্রাম নিয়ে তবে ব্যায়াম শুরু করুন। যাদের ব্যায়াম করার অভ্যাস বহুদিনের, তারা হঠাৎ করে ছেড়ে দেবেন না। এতে পরবর্তীতে অভ্যস্ত হতে সমস্যা হয়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে শক্তি খরচ হয়। এজন্য বাড়তি খাবারের মাধ্যমে সে অভাব পূরণ করা জরুরি। শর্করা জাতীয় খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে তাজা ফল খান। এছাড়া পানির অভাব পূরণ করার জন্য প্রচুর পানি পান করবেন।

টিপস:
ব্যায়ামের জন্য বেছে নিতে পারেন ঢিলেঢালা সুতি পোশাক, টি শার্ট, ঢিলা প্যান্ট অথবা ট্রাউজার।
গান শুনতে শুনতে জগিং করতে পারেন। অথবা বন্ধুরা মিলে গল্প করতে করতে হাঁটুন। বিরক্তি লাগবে না।
ব্যায়াম করার জন্য খোলামেলা জায়গা বেছে নিন। প্রচুর গাছপালা ও প্রাকৃতিক বাতাস শরীরচর্চায় আগ্রহ বাড়ায়।

Comments

comments