শাওনকে সিগারেটের রাংতায় চিঠি লিখে পাঠাতেন হুমায়ূন আহমেদ

SH55

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদ ও মেহের আফরোজ শাওনের প্রেম-বিয়ে এখনো চর্চার বিষয়। এ নিয়ে পাঠক-দর্শকের কৌতুহলের শেষ নেই। কী করে শুরু হয়েছিল প্রেম, তারপর পরিণয়। সে রহস্য নিয়ে মুখ খুললেন শাওন। সম্প্রতি তার মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। সেখানে স্মৃতির ঝাঁপি খুলেন এ নির্মাতা, গায়িকা ও অভিনেত্রী।

শাওন বলছিলেন, ‘উনি বলেছিলেন, গুহাচিত্র যারা আঁকতেন, তাদেরও কাউকে লাগত ওই অন্ধকারে প্রদীপটা ধরে রাখার জন্য। যাতে সেই চিত্রকর নিজের কাজটা করতে পারেন। তুমি কি আমার জন্য সেই আলোটা ধরবে?’

এতেই তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল কিশোরী শাওনের পৃথিবী। চুপ করে থেকেছিলেন কয়েকটা দিন। ‘কী বলব বলুন! ওই কথার মর্মোদ্ধার করার মতো বয়সও নয় সেটা। তারই চার-পাঁচ দিন পর উনি আবার বললেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যদি একা চলে যাই, সব ছেড়ে? তুমি থাকবে? আর কিন্তু উত্তর দিতে দেরি করিনি আমি। বলেছিলাম, থাকব। সবসময় থাকব।’

রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভক্ত ছিলেন হুমায়ুন। সেখানেই গান দিয়ে দ্বার খুলেছিলেন শাওন। তিনি বলেন, ‘সেই ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় থেকেই তো উনার নাটকে অভিনয়, গান করি। ইউনিটের কেউ যদি গান জানতেন, উনি রিহার্সালের পর তার কাছে শুনতে চাইতেন। সেই ভাবে আমার কাছেও অনেকবার শুনতে চেয়েছেন। আমি খুব চটপট গান তুলে নিতে পারতাম বলে আমার নাম দিয়েছিলেন টেপ রেকর্ডার!’

আরো বলেন, ‘‘মাঝে মাঝে সিগারেটের রাংতায় হাতচিঠি দিতেন। একবার লিখে দিয়েছিলেন সুনীলের লাইন- ‘ভ্রু পল্লবে ডাক দিলে দেখা হবে চন্দনের বনে।’ হয়তো রিহার্সালের পর একা বসে খাচ্ছেন, আমি হয়তো এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেছি কিছু লাগবে কি-না। ছেলেমানুষের মতো খুশি হতেন। একটু যত্ন একটু মায়া খুবই চাইতেন উনি।’’

হুমায়ুন আহমেদের কাছ থেকে পাওয়া প্রিয়তম উপহারটা কী? ‘‘বিয়ের আগে আমি তো কোনো দামি উপহার নিতাম না। উনার পাথরপ্রীতি ছিল খুব। একটা লাল গোমেদ দিয়েছিলেন, খুবই দামী। আমি নিইনি। তারপর যেটা দিলেন তা উনার পক্ষেই সম্ভব। রেললাইন থেকে তুলে আনা একটা বড় পাথরে কলম দিয়ে কয়েকটা ক্রস চিহ্ন করে দিয়ে বলেছিলেন, এটা নিতে নিশ্চয়ই কোনো বাধা নেই! আমি সেই পাথরটার প্রেমে পড়লাম যেন। সব সময় সঙ্গে রেখে দিতাম, কলেজে নিয়ে যেতাম! মা তিতিবিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন আমার আচরণে। ওনার একটা গল্প রয়েছে পাথর নামে। সেই গল্পে এই ঘটনার ছায়া রয়েছে।’’

Comments

comments