‘একজন’ সত্যজিৎ ও বাংলাদেশ

Sroy5

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সত্যজিৎ রায় এক কিংবদন্তি নাম। পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া গ্রামে। ছবি, ক্যালিগ্রাফি, বইয়ের প্রচ্ছদ, সায়েন্স ফিকশন, গোয়েন্দা কাহিনি, তথ্যচিত্র, সংগীত-কোথায় তার পদাঙ্ক নেই? এমনকি ছবির চিত্রনাট্য থেকে সংগীত সব জায়গায় যাঁর বিচরণ। আজ এই বাংলা চলচ্চিত্রের পথিকৃতের জন্মদিন। তিনি ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। আজ তার ৯৬তম জন্মবার্ষিকী।

বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশকে সত্যজিৎ রায় যে কতটা আপন করে নিয়েছিলেন ‘পথের পাঁচালী’ ছবি নির্মাণ এর জ্বলন্ত প্রমাণ। ১৯৫৫ সালে তিনি ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণের জন্য অস্কার পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাঙালিকে যারা বিশ্বের দরবারে সুপরিচিত করেছেন সত্যজিৎ রায়। তিনি অস্কার পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে তথা বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের মসুয়া গ্রামকে বিশ্ব সভায় স্থান করে দিয়েছেন।

সত্যজিৎ রায় মাত্র ৫ বৎসর বয়সে মায়ের সঙ্গে প্রথম এসেছিলেন বাংলাদেশে। ১৯৭২ সালে আবারো এসেছিলেন মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে। সেদিন পল্টন ময়দানে প্রধান অতিথির প্রদত্ত ভাষণে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

বহুবার সত্যজিতের কাছে অন্য ভাষায় ছবি নির্মাণ করার জন্য প্রস্তাব এসেছিলো। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ তার রক্তে যে ভাষা তা বাংলা। অন্য ভাষায় গেলে নিজের পায়ের তলায় মাটি থাকবে না। কূল-কিনারা পাবেন না। আর তিনি ছেলেবেলা থেকে শুনে এসেছেন, পূর্ববঙ্গ নাকি তার দেশ।

১৯৫৫ সালে পথের পাঁচালীর পরিচালক হিসেবে যাত্রা করে সত্যজিৎ রায় ৩৪টি ছবি তৈরি করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রাণপুরুষ হিসেবে স্বীকৃতি পান। অসংখ্য পুরস্কারের পাশাপাশি অস্কার সম্মাননা তাঁর জীবনের সেরা স্বীকৃতি। অপু ট্রিলজি, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘জলসাঘর’, ‘নায়ক’, ‘দেবী’, ‘তিন কন্যা’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘চারুলতা’, ‘জনঅরণ্য’, ‘হীরক রাজার দেশে’ তার উল্লেখযোগ্য ছবি।

১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন সত্যজিৎ। তিনি না থাকলেও আছে তার কর্ম ও সৃষ্টি। সমগ্র জীবন তিনি বাঙালির ভাষা, শিল্প-সাহিত্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করে গেছেন।

Comments

comments