পারদ ও চুম্বক দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগালেন বাংলাদেশি যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কেরানীগঞ্জে পারদ ও চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শরীফুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবক। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বাসিরা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. আনোয়ার হোসেন ভাষানী। একটি বিশেষ কায়দায় যন্ত্রটি তিনি তৈরি করেছেন। এ জন্য তার পার করতে হয়েছে প্রায় এক যুগ। ঘুরতে হয়েছে দেশ-বিদেশ। শরীফুলের আবিষ্কৃত যন্ত্রের ভেতর পারদ ও চুম্বক ব্যবহার করে উৎপাদন হচ্ছে বিদ্যুৎ। দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার পর তিনি এ সাফল্য পেয়েছেন বলে দাবি শরীফুলের।

তার উৎপাদিত বিদ্যুতের নাম দিয়েছেন তিনি ‘ফ্রি এনার্জি ম্যাগনেটিক পাওয়ার’। শরীফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, তার যন্ত্রের ভেতরে শুধুমাত্র পারদ ও চুম্বক ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই চুম্বক থেকে প্রতিদিন ৯০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। যা দিয়ে ১টি ফ্রিজ, ১টি টিভি, ২টি ফ্যান ও ৩টি বাতি জ্বালানো যায়। যন্ত্রটি তৈরিতে খরচ পড়বে ১৫ হাজার টাকার মতো। শরীফুলের দাবি, একবার যন্ত্রটি চালু করা হলে ৩০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

শরীফুল তার উদ্ভাবিত বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদকে দেখাতে নিয়ে আসেন। পরে তিনি রাজেন্দ্রপুর মনোয়ারা কমপ্লেক্স ভবনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা দিয়ে টেলিভিশন চালিয়ে ও কয়েকটি বাতি জ্বালিয়ে দেখান। এ সময় শত শত লোক শরীফুলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেখার জন্য ভিড় জমান।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ বলেন, শরীফুলের আবিষ্কৃত যন্ত্রটি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। আমরা টিভি চালিয়ে ও বাতি জ্বালিয়ে তার প্রমাণ পেয়েছি। এটা অবশ্যই তার সাফল্য। আশা করি সরকার যদি শরীফুলের এ আবিষ্কারকে পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে আবিষ্কারটি দিয়ে বিশ্বে যেমন তাক লাগানো যাবে তেমনি বাণিজ্যিকভাবেও এ সেক্টরে বিশাল সাফল্য পাওয়া যাবে।

শরীফুল ইসলাম জানান, অভাব-অনটনের কারণে তিনি বেশি পড়াশুনা করতে পারেননি। এরপর জীবিকার তাগিদে ২০০৩ সালে একটি ইলেক্ট্রনিক পণ্য তৈরির কারখানায় কাজ নিয়ে চলে যান দক্ষিণ কোরিয়া। পথঘাট ও ভাষা না জানা থাকার কারণে তাকে বসে থাকতে হতো কারখানায়। সেখানে অবসর সময়ে ওই কারখানায় বসে বসেই চিন্তা করতাম কি করা যায়। ছোটবেলা থেকেই আমার ইলেক্ট্রিক কাজের দিকে মন চলে যেত। সেই ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি নাড়াচড়া করতে করতে এক সময় মাথায় ঢোকে কিভাবে অন্য উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

এরপর শুরু হয় আমার গবেষণা। কিন্তু ভাগ্যের লীলা বেশিদিন টেকেনি। ৪ মাস পর দেশে চলে আসি। দেশে আসার পরও বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক দোকানে গিয়ে আমার গবেষণা চালিয়ে যাই। পারিবারিক অনটনের কারণে ফের ২০০৭ সালে মালয়েশিয়া চলে যাই। সেখানেও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ নেই। এখানে কাজের চাপ বেশি থাকলেও গবেষণার নেশা আমার কাটেনি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলে আমার গবেষণা। এখানে কাজ করার সময় আমি মাঝে মাঝে বিদেশি ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারদের সহযোগিতা নিয়েছি। এটা করলে কি হবে, ওটা করলে কি হবে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে আমার গবেষণার খুঁটিনাটি জানতাম।

এরপর ২০১৫ সালে দেশে এসে পুরোমাত্রায় গবেষণা চালিয়ে চুম্বক ও পারদ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হই। প্রথমদিকে আমার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি দিয়ে ১৬০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারতাম। বর্তমানে আমার আবিষ্কৃত যন্ত্রটি দিয়ে ৯০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যাচ্ছে।

শরীফুল বলেন, আমার আবিষ্কৃত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার যন্ত্রটি তৈরি করতে ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। একবার যন্ত্রটি চালু হলে ৩০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে যন্ত্রটি বাজারজাত করার ইচ্ছা আছে। এতে করে সরকার যেমন বিদ্যুৎ সেক্টরে চাপ অনেকটা কমাতে পারবে তেমনি সাধারণ জনগণও কম খরচে হাতের নাগালে ভালো মানের একটি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র পাবে। এ যন্ত্রের কোনো শব্দ নেই। নেই পরিবেশ দূষিত করার মতো ধোঁয়া।

Comments

comments