অদম্য প্রাণশক্তির ভয়ানক প্রাণী বিছা

প্রাণিসম্পদ ডেস্ক:
পৃথিবীতে বিছার আগমন ডাইনোসরেরও আগে। ধারণা করা হয়, সহস্র লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে বিকশিত হওয়া প্রাণ যখন পানি থেকে ডাঙ্গায় আসা শুরু করে সেই বিছারা তখন থেকে পৃথিবীতে বিচরণ করছে। এই ধারণার একমাত্র কারণ বিছাদের দেহাকৃতি লবস্টারের মতো বলেই নয়, বরং স্কটল্যান্ডে বিছাদের সহস্র লক্ষ বছর পুরোনো ফসিল পাওয়া গিয়েছে। এটি নিশ্চিতভাবে নির্দেশ করে সহস্রাব্দী আগেও বিছারা এই পৃথিবীতে বিপুল দাপটে অবস্থান করত। আগে বরং বিছাদের আকার আরও বড় ছিল। এখন কালক্রমে সেই আকার প্রাচীন আকারের অর্ধেকে এসে ঠেকেছে।

বিছাদের এত বছর সগৌরবে টিকে থাকার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত ওদের শরীরের ভয়ানক বিষ। পৃথিবীতে মাত্র ৩০ বা ৪০টি এমন প্রজাতির প্রাণী আছে যারা আস্ত একটা মানুষকে নিমিষেই মেরে ফেলার মতো বিষ ধারণ করে। বিছা সেইসব প্রাণীদের একটি। এর বিষ এতই ভয়ানক যে তা যে কোনো বিশাল আকৃতির প্রাণীকে কুপোকাত করতে পারে। এত ভয়ানক বিষ তাও ঐ ছোট্ট দেহতে!

আলাদা আলাদা প্রজাতির বিছার দেহে আলাদা ধরণের বিষ থাকে। সেটা বিশেষভাবে বিশেষ প্রাণীর জন্য তৈরি হয়। হতে পারে সেটা বিছাটির খাদ্য অথবা বিছাটির শত্রু। মোটকথা বিষের ভাণ্ডারে বিছারা এতই শক্তিশালী হয় যে তাদের বধ করা প্রায় অসম্ভব।

বিছাদের শরীরে আটটি পা থাকে ঠিক মাকড়শার মতো। তবে প্রথম দুইটি পাইয়ে বিছাদের দুইটি চিমটা আছে, আর আছে একটি চাবুকের মতো শক্তিশালী ও চলনশীল লেজ। বিছার যখন কোনো প্রাণীকে শিকার করতে হয় আগে সেটিকে চিমটা দিয়ে ধরে তার উপরে লেজটি দিয়ে চাবুকের সপাং করে আঘাত করে। লেজের শীর্ষেই থাকে বিষের সূচ। সেটি শিকারের দেহে প্রবেশ করে। আর শিকার খুব দ্রুতই বধ হয়ে যায়।

বিছাদের প্রিয় খাদ্য ছোট ছোট পোকা বা অন্য কোনো জীব। এভাবে পোকামাকড় খেয়ে ওরা দিব্যি জীবন ধারণ করে। তবে খুব বৈরী পরিবেশে যদি পোকামাকড়ের এমনকি অন্য কোনো প্রাণীরও খুব আকাল হয় বিছারা নিজেদের শরীরের কার্যক্রমে অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে। অনেকটা ব্যাঙের শীত নিদ্রায় যাওয়ার মতো। এই পদ্ধতিতে বিছারা বছরে মাত্র একটি শিকার করে বছর কাটিয়ে দিতে পারে। এ সময়ে বিছাদের শরীরে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রাও অনেক কমে আসে।

পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই অসীম ক্ষমতার কারণে ভীষণ কঠিন পরিবেশেও বিছারা নিরাপদে টিকে থাকতে পারে। আর এইটাই এত বছর ধরে বিছা নামে প্রাণীটির পৃথিবীতে টিকে থাকার রহস্য।

বিছা কত ভয়ানক পরিবেশে টিকে থাকতে পারে তার পরীক্ষা করার জন বিজ্ঞানীরা বিছাকে ডিপ ফ্রিজে সারা রাত ধরে জমিয়ে বরফ বানিয়েছে এরপর সকালে রোদে দেওয়ার পরে বরফ গলে দিব্যি একটা জ্যান্ত বিছা হাটা চলা শুরু করেছে। কাজেই ওদের টিকে থাকার শক্তি সহজেই অনুমেয়।

এত অদম্য শক্তিশালী বিছারা একটি কারণেই কোনো জায়গায় টিকে যাওয়ার যুদ্ধে হেরে যেতে পারে তা হচ্ছে বিছারা গর্তজীবী প্রাণী কোথাও যদি গর্ত করার মতো আলগা মাটি না পায় তবে বিছারা সেখানে টিকতে পারে না।

Comments

comments