কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ‘ধর্ষণের আলামত’ মিলেছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
প্রায় তিন মাস পর ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় ডাক্তারের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যেখানে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে ওই শিক্ষাথীর ফরেনসিক রিপোর্ট ত্রিশাল থানায় পৌঁছেছে।

“মেডিকেল রিপোর্টে ওই শিক্ষার্থী একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ায় দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে।” ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের মৃত্যুর কারণে এ রিপোর্ট দিতে বিলম্ব হয়েছে।

গত ২ মে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। ওসি বলেন, পরদিন (৪ মে) ওই শিক্ষার্থী ত্রিশাল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মিনহাজ উদ্দিনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান জানান, গত ৭ মে তাদের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ওই শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়।

“কিন্তু ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার স্বপ্না কুন্ডু গত ২২ মে মৃত্যুবরণ করার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ প্রায় ৫০টি মামলার ফরেনসিক মেডিকেল রিপোর্ট মাঝপথে আটকে যায়।” এ নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন তাকে ডা. স্বপ্না কুন্ডুর অসমাপ্ত রিপোর্ট করার দায়িত্ব দেন বলে জানান মোখলেছুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকালে ফরেনসিক রিপোর্ট ত্রিশাল থানায় পাঠানো হয়েছে জানালেও তাকে কী আছে তা জানাতে রাজি হননি মোখলেছুর রহমান।

ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউর রহমান বলেন, মামলা করার পর ওইদিনই পুলিশ আসামি মিনহাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Comments

comments