অ্যাকুরিয়ামের ‘ক্যাটফিস’ বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে পুকুরে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
মাছটির নাম ‘ক্যাটফিশ’। পুরো নাম ‘সাকার মাউথ ক্যাটফিশ’। শারীরিক গঠন আকর্ষণীয়। কাঁটাযুক্ত সারা শরীরে রয়েছে নান্দনিক কারুকাজ। একসময় এই মাছ অ্যাকুরিয়ামে রাখা হলেও এখন তা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ‘মুনশী মৎস্য খামারে’। তবে স্থানীয়দের কাছে এই মাছ ‘পাথরছাড়ি’ নামে পরিচিত।

গৌরীপুর পৌর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় প্রায় এগারো একর জমি নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘মুনশী মৎস্য খামার’। একসময় এই খামারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মাছ চাষ করা হলেও গত এক বছর আগে খামারের পরিচালক শাহিদ মুনশী চট্টগ্রাম থেকে ‘ক্যাটফিশ’ এর ৩০/৪০ গ্রামের পোনা সংগ্রহ করে গৌরীপুর নিয়ে আসেন। এরপর ৬৫ কাঠা জমির বিশাল পুকুরে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এই মাছের চাষ শুরু করেন। একবছর আগে ছাড়া মাছগুলোর ওজন এখন দুই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত হয়েছে। বর্তমানে পুকুরে প্রায় দেড় শতাধিক ‘ক্যাটফিশ’ আছে বলে জানিয়েছেন শাহিদ।

সরেজমিনে শনিবার দুপুরে ‘মুনশী মৎস্য খামারে’ গিয়ে দেখা মেলে দুর্লভ প্রজাতির ‘ক্যাটফিশ’ এর। আকর্ষণীয় শারীরিক গঠনের এই ‘ক্যাটফিশ’ ধরা পড়ার খবরে মাছটি এক নজর দেখার জন্য মানুষ ভীড় জমায় পুকুরপাড়ে।

‘মুনশী মৎস্য খামার’ এর পরিচালক শাহিদ মুনশী বলেন, “ক্যাটফিশ মাছ খেত সুস্বাদু। দ্রুত বৃদ্ধি পায়। রোগ-পীড়াও তেমন হয় না। দেশীয় মাছের মতো আঠা ও খৈল খাওয়ানো হয় ক্যাটফিশকে। বর্তমানে দুই থেকে তিন কেজি দেড়শতাধিক ‘ক্যাটফিশ’ আছে পুকুরে। আগামী বছর এগুলোর প্রত্যেকটির ওজন পাঁচ কেজির ওপরে হলে তখন বিক্রি করা হবে।”

এদিকে ‘মুনশী মৎস্য খামার’ এ ‘ক্যাটফিশ’ চাষের খবর পেয়ে স্থানীয় অনেক মাছ চাষীরা এর চাষের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

অপরদিকে, ময়মনসিংহ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, অ্যাকুরিয়ামে রেখে সৌন্দর্য উপভোগের জন্যই বাংলাদেশে এ প্রজাতির মাছ একজন বিদেশি কূটনৈতিক প্রথম নিয়ে আসেন। তিনি চলে যাওয়ার সময় সেটি গুলশান লেকে ছেড়ে যান। এক সময়ে দুলর্ভ হলেও এখন সেটি সারাদেশেই ছড়িয়ে যাচ্ছে। দু’বছর আগে কাপ্তাই হ্রদে এটি পাওয়া যায়।

catfish37

এ বছরই সিলেট, মৌলভীবাজার, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি হ্রদ বা নদীর তলদেশে বাস করে। পুকুরেও মাছটি তলদেশে কাঁদায় লুকিয়ে থাকে। অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির হলেও পুরো শরীরে আছে কাঁটা। মুখমণ্ডল দেখতে অক্টোপাসের মতো। জলের তলদেশে জন্মানো শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ খেয়ে থাকে এই মাছগুলো।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার জান্নাত-এ-হুর বলেন, “ক্যাটফিশ’ প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল। গৌরীপুরে এই মাছ বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে, এটি সুসংবাদ। তবে এই মাছের বংশবৃদ্ধি, বাজার ও মাছ খাওয়ার পর কোনো ক্ষতিক্ষর প্রভাব আছে কি-না তাও দেখতে হবে এবং এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন।”

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ডক্টর খলিলুর রহমান বলেন, “সাকার মাউথ ক্যাটফিশ’ উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের মাছ। দেশীয় আবহাওয়া এই মাছের জন্য উপযোগী হলেও এটা বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ করে লাভবান হওয়ার সুযোগ একেবারেই কম। কারণ, ‘ক্যাটফিশ’ মাছের শারীরিক গঠন দেখে এটা কেউ খেতে চাইবে না।”

তিনি আরো বলেন, “ক্যাটফিশ মাছ অ্যাকুরিয়ামের শোভাবর্ধন করে। আমার মনে হয়, আমাদের দেশে এ ধরনের বিদেশি মাছ চাষাবাদের প্রচলন করা ঠিক হবে না।”

Comments

comments