অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়নি রাবেয়া-রোকাইয়ার

নিউজ ডেস্ক:

পাবনায় জন্ম নেওয়া মাথা জোড়া লাগানো শিশু রাবেয়া ও রোকাইয়াকে (১) ফের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখনো অস্ত্রোপচার করে আলাদা করার সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত ২৪ জুলাই বিএসএমএমইউ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিনের অধীনে তাদের ভর্তি করা হয়।

এর আগে প্রথম দফায় মাত্র চার দিন বয়সে রাবেয়া ও রোকাইয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ২১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত শিশু সার্জারি বিভাগে তারা চিকিৎসাধীন ছিল। তাদের জন্ম ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই।

শিশু দুটির বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা তাসলিমা। তাদের বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলঙ্কা গ্রামে। এই দম্পতির ৭ বছর বয়সি আরেকটি মেয়ে আছে। রফিকুল ইসলাম উপজেলার অমৃতকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

রফিকুল ইসলাম জানান, পুনরায় ভর্তির পর তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আজও পরীক্ষা শেষ হয়নি। হার্ট, ফুসফুস ও কিডনি পরীক্ষা করানো হয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাফি করিয়েছি। এমআরআইসহ আরো পরীক্ষা করতে হবে। সব পরীক্ষা শেষ করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে এখনো চিকিৎসকরা কিছুই জানাননি।

তিনি বলেন, ওদের মাথায় জোড়া ছাড়া অন্য সমস্যা দেখি না। বেশ চঞ্চল আছে। খেলা করে। স্বভাবিক খাবার খায়। আজ একটু জ্বর জ্বর মনে হচ্ছে। সবসময় শুয়ে থাকতে চায় না। কোলে নিয়ে হাঁটতে হয়।

শিশু দুটির জন্ম সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তাসলিমাকে পাবনার পিডিসি ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখাতে নেওয়া হয়। ওই দিনই সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মাথা বড় রয়েছে।

মাথায় পানি জমে থাকতে পারে। জন্মের পর সে মানসিকভাবে এবনরমাল হতে পারে। আগেভাগেই সিজার করা ভালো।

তাই ১৬ জুলাই চিকিৎসকরা সিজার করে। সিজারের পর দেখা যায় শিশুটির মাথা বড় নয়, মাথা জোড়া লাগানো দুটি শিশু।

মাথা ছাড়া শিশু দুটির সবকিছু আলাদা। চিৎ হয়ে ঘাড় কাত করে দুজনে মাথা মিশিয়ে শোয়ার মতো। দুজনের মাথা জোড়া লাগানো।

এ ব্যাপারে জানতে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Comments

comments