নওগাঁয় পশুর হাটে ধস লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা

মোঃখালেদ বিন ফিরোজ,নওগাঁঃ
আর কয়েকদিন বাদে ঈদ উল আজহা।বন্যার কারণে নওগাঁর পশু খামারি, ব্যবসায়ি ও গৃহস্থতরা পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।বন্যায় বিশেষ করে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে জেলা জুড়ে।যার কারণে পশুর হাটগুলোতে এতোদিন তেমন পশুর আমদানি হয়ে উঠেনি। তবে ঈদকে ঘীরে শুক্রবার থেকে হাটগুলো জমতে শুরু করেছে দেশীয় পশুতে।
দাম যাই হোক না কেন পশু বিক্রি করতে হাটে তুলছেন ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নওগাঁয় ছোট-বড় ১০৮টি হাট-বাজার রয়েছে।স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে ৩৮টি। এর মধ্যে নওগাঁ সদরের ত্রি-মোহনী, মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া, সুতিহাট, নিয়ামতপুরের ছাতড়া হাট, মহাদেবপুরের মাতাজী, বদলগাছীর কোলা ও গোবরচাপাহাট, আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ বান্দাইখাড়া, পত্মীতলার মধইল, ধামইরহাটের ইসবপুর, আগ্রাদ্বিগুন, রাণীনগরের আবাদপুকুর, সাপাহারের উমইল ও দিঘীর হাট, পোরশার গাংগুরিয়া ও মর্শিদপুর পশু কেনাবেচার বড় হাট।জেলার ঐতিহ্যবাহী হাট বদলগাছী উপজেলার কোলা হাট।ঈদ মৌসুমে এ হাটে প্রায় ৭-১০ কোটি টাকার বেঁচাবিক্রি হয়ে থাকে। বন্যার কারণে পশুর বাজারে ধস নেমেছে। ঈদের সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে জেলার বড় হাটগুলোতে ব্যবসায়ীদের আগমন ঘটত।যার কারণে এবার বাহির থেকে তেমন বড় ব্যবসায়ীদের হাটে আগমন হয়নি। এবার তার ব্যতিক্রম।ফলে এলাকার পশুগুলো এলাকাতেই রয়েছে।হাটে প্রচুর গরু-ছাগলের আমদানি হয়েছে।পশুর দাম তুলনা মূলক অনেক কম।এবার ব্যবসায়ী, গরু খামারি এবং গৃহস্থদের জন্য ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে পড়তে হচ্চে। আবার বেকার যুবক যারা কর্মসংস্থানের জন্য পশু লালন পালন করেছে তাদের অবস্থাও এবার করুন।তবে দাম না হওয়ায় অনেকে গরু ফেরত নিয়ে যেতে দেখা গেছে।বদলগাছীর কোলা হাটে গরু বিক্রির জন্য আসছেন ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন।তিনি বলেন, এবার ঈদ উপলক্ষে ১০টি লাল রং এর এড়ে গরু কিনেছি। প্রতিটি গরু ৫০-৬০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করে। বন্যার কারণে গরুর বাজার এখন অনেক কম।যারা বাড়ির গরু বিক্রি করবে তাদের তো আর লাভ বা লোকসানের কোন যুক্তি আসেনা।তবে আমার প্রতিটি গরুতে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো লোকাসান গুনতে হবে।
উপজেলার ফতেপুর গ্রামের সোহরাব হোসেন বলেন, তার ষাঁড়টির দাম রাখছেন ৬০ হাজার টাকা।বাড়িতে বেপারিরা ৫০ হাজার টাকা দাম বলেছেন।তাদের দাম পছন্দ না হওয়ায় হাটে নিয়ে এসেছেন।উপজেলার পারসোমবাড়ীর মামুন হোসেন বলেন, বন্যায় চারিদিক প্লাবিত। বাড়িতে লালন পালন করা খাসি হাটে নিয়ে এসেছি।যে খাসিটির দাম ১৮-২০ হাজার টাকা হওয়ার কথা ক্রেতারা সেটির দাম হাকছেন ১২-১৫ হাজার টাকা।গবাদিপশুর খাবারের সমস্যার কারণে দাম অনেকটাই কমে গেছে।
বদলগাছীর কোলা হাট ইজাদার শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গত ১৪-১৫ দিনে বন্যার কারণে হাটে তেমন পশুর আমদানি না থাকায় বেঁচা বিক্রি ছিলনা।তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়া এবং ঈদ ঘনিয়ে আসায় শুক্রবার থেকে বিগত বছরগুলোয় তুলনায় বিভিন্ন হাটগুলোতে প্রচুর দেশীয় গরুর আমদানি হয়েছে।গরুর তুলনায় দামও অনেকটা কম। বিক্রেতারা পশু বিক্রি করতে তেমন স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন না।
নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উত্তোম কুমার দাস, জেলায় ছোট বড় প্রায় ৪৫৬টির খামার আছে।এবার ঈদে জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টি। হৃষ্টপুষ্ট করে প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫১টি পশু কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে পড়েছেন খামারিসহ গৃহস্থরা।

Comments

comments