সৌদিতে হাজিদের রাত কেটেছে কবুতরের বিষ্ঠার মধ্যে

নিউজ ডেস্কঃ

সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর হুকুম পালনে দূর-দূরান্ত তথা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজ পালন করতে যান। উদ্দেশ্য থাকে শুধুমাত্র মহান রবের নির্দেশ মেনে তার সন্তুষ্টি অর্জন।

অথচ হজ এজেন্সির মোয়াল্লেমরা আল্লাহর এই মেহমানদের সৌদি আরবের পরিত্যক্ত ঘরে রেখেছেন। হাজিদের যে সব সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তার কিছুই পালন করেননি।

এমনকি হাজিদের ভালো হোটেলে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও সৌদি আরবে তাদেরকে কবুতরের বিষ্ঠার মধ্যে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অধিকাংশ হাজি ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিমান বন্দরে এসব দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দুর্ভোগের শিকার হাজিরা।

হজ এজেন্সি কে.আই. ট্রাভেলসের যাত্রী আনোয়ারা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, আমাদেরকে কবুতরের পায়খানার ঘরে রেখেছে। এতো জঘন্য ঘরে রেখেছে যে আমাদের সবার ডায়ারিয়া হয়েছিলো। আমার স্বামী মারা যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিলো।

তিনি বলেন, আমাদেরকে যখন মুজদালিফায় নিয়ে যায় তখন একটা বন্ধ গাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছিলো, এতো গরম যে ২০/২৫ জন মারা যাওয়ার পথে ছিলো। এরপর মুজদালিফা থেকে আমাদেরকে ৯ ঘণ্টার পথ হাটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের প্রতিটা মানুষের চোখের পানি পড়ছে। ছেলে, মেয়ে এবং মহিলা সকলেই কেঁদেছেন। আমরা হজ করে আসছি একটা কথাও মিথ্যা বলছি না।

অভিযোগ পাওয়া গেছে কে আই ট্রাভেলসের (লাইসেন্স নম্বর ৮৬৬) মাধ্যমে যাওয়া ৫৬ জন হাজিকে এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে আবার রাখা হয়েছে ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে (মাটির নিচে)। যেখানে কোনো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিলো না।এমনকি মোবাইলের নেটওয়ার্কও পাওয়া যায়নি। ভবনের মধ্যে এমন গরম যে অনেকের শরীরে ফোসকা পড়ে গেছে।

তবে এই সময়ে কে.আই. ট্রাভেলসের মোয়াল্লেম মশিউর রহমান রায়হান হাজিদের ধরাছোয়ার বাইরে ছিলো। বার বার রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন হাজীরা।

হাজি জোহরা আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, আমাদেরকে মদিনাতে একটা পরিত্যক্ত ভবনে রাখা হয়েছিলো। যে ভবনটা এমন ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারতো।
তিনি বলেন, আমরা ৬টা বড় রাস্তা, মেইন রোড পার হয়ে মসজিদে নববীতে নামাজ পড়তে যেতাম। ওই রাস্তায় কোনো সিগন্যাল ছিলো না, খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে মসজিদে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হয় সেখানে আমরা মাত্র ২০ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পেরেছি। রাতের বেলা আমরা যেতে পারতাম না। শুধু আসর ও মাগরিবের নামাজ পড়তে পেরেছি। গরমে আমার হাতে ফোসকা পড়ে গেছে।
জোহরা আক্তার বলেন, আমাদেরকে যেখানে রাখা হয়েছে খুবই নোংরা ভবন। ওয়াশরুমগুলো এতো নোংরা ছিলো যে মাছি বন বন করতো। আমরা যখন খেতে বসতাম ওই মাছি আবার প্লেটে এসে বসতো। আমাদের প্রত্যেকটা লোকের ডায়ারিয়া হয়েছিলো।
এদিকে হাজিদেরকে শুধু থাকার কষ্ট দেওয়া হয়েছে এমন নয়। তাদেরকে যে খাবার দেওয়া হয়েছে তাও আবার ফ্রিজে রাখা গতবছরের মাংস। এসব খাবার খেয়েও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন অনেকেই। আবার কয়েকবেলা খাবার দেওয়া হয়নি।

পরে হাব মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম খবর পেয়ে তাদেরকে খাবার দিয়ে আসেন। এবং বাংলাদেশে ফিরে কে আই ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে জানান সেকেন্দার আলী সরদার নামের আরেক হাজী।

তবে এসকল অভিযোগের একটিও স্বীকার করেননি মোয়াল্লেম মশিউর রহমান রায়হান। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, হাজিদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার সবগুলোই দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সরকারি রেটের চেয়ে টাকাও কম নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বেধে দেওয়া টাকার চেয়ে কম কেনো নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কম না নিলে হাজিরা যেতে চান না। আমার লাইনে থাকলে আপনিও কম নিতেন।

তবে হাজিদের অভিযোগ প্রথমে তাদের থেকে ২লাখ ৮০ হাজার টাকা নিলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অযুহাতে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন রায়হান।

এ বিষয়ে কথা বলতে কে আই ট্রাভেলসের মালিক রফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন বাংলানিউজকে বলেন, হাজিরা আল্লাহর মেহমান। তাদেরকে সুন্দরভাবে হজে পাঠাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেকে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সৌদি আরবে নিয়ে তাদের সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয় তাহলে ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমি এখনই মন্ত্রণালয়ে জানাচ্ছি। আর আমি ঢাকার বাইরে আছি। ঢাকায় ফিরেই বিষয়টি দেখবো

(Visited 1 times, 1 visits today)