তিন ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা, তবুও ভিক্ষা করেন মা

বরিশাল সংবাদদাতা:
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের মৃত্যু আইয়ুব আলী সরদারের সত্তরোর্ধ স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের তিন ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা এবং মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। কিন্তু তাদের গর্ভধারিণী মা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

নিয়তির কি পরিহাস! যে গর্ভে এতগুলো সু-সন্তানের ধারন করেছে। সেই মাকে এখন ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এ ছাড়া তিনি এতটাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন, যে এক বেলা তার ভাগ্যে ভাতও জুটছে না।

জানা গেছে, আইয়ুব আলী-মনোয়ারা দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে- ফারুক হোসেন, নেছার এবং জসীম উদ্দিন পুলিশে কর্মরত আছেন। মেয়ে মরিয়ম সুলতানা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। অন্য দুই সন্তান শাহাবউদ্দিন ব্যবসা এবং গিয়াস উদ্দিন নিজের ব্যবহৃত ইজি বাইক ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম বয়সের ভারে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পর্যন্ত পারেন না। এদিকে গত ৪-৫ মাস আগে ভিক্ষা করতে যেয়ে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙ্গে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বাবুগঞ্জের স্টিল ব্রিজের পাশে একটি খুঁপরী ঘরে বিনা চিকিৎসায় অনাহারে-অর্ধাহারে বেঁচে আছেন।

বৃদ্ধার ছেলে ইজি বাইক চালক গিয়াস উদ্দিন জানান, তার সাধ্য মতো মাকে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে সে নিজেও সহায় সম্বলহীন বলে বৃদ্ধ মা আজ বিনা চিকিৎসায় প্রায় মৃত্যু পথযাত্রী। গিয়াসের তিন ভাই পুলিশ অফিসার। ভাইয়েরা তাদের স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যত্র থাকে। মায়ের কোন খোঁজ খবর নেন না বলে জানান তিনি।

Comments

comments