ভোলায় পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু

নিউজ ডেস্কঃ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে রাষ্ট্রায়াত্ত কোম্পানি বাপেক্সের আবিষ্কৃত নতুন ক্ষেত্র ‘শাহবাজপুর ইস্ট-১’ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে।

বুধবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. হাসানুজ্জামান, ড্রিল স্টেম টেস্টের (ডিএসটি) মাধ্যমে উঠে আসা গ্যাসের প্রবাহ অত্যন্ত শক্তিশালী। চাপ প্রায় পাঁচ হাজার পিএসআই। এর আগের পরীক্ষা–নিরীক্ষায় ফল থেকে যা ধারণা করা হয়েছিল, তা-ই প্রমাণিত হয়েছে। ক্ষেত্রটিতে অন্তত ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম নতুন ক্ষেত্রটি আবিষ্কারের খবর প্রথম প্রকাশ করেন। সেদিন মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এই খবর জানান।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার শাহবাজপুরে বিদ্যমান ক্ষেত্রটি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একই থানার টাবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামে অনুসন্ধান কূপ খনন করে নতুন এই গ্যাসক্ষেত্রের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।

বাপেক্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কূপে ৩৫৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন চালিয়েছেন তারা। এর মধ্যে ৩৪০০ থেকে ৩৪৭০ মিটারের মধ্যে তিনটি স্তরে গ্যাসের অস্তিত্ব মিলেছে।

ভোলার শাহবাজপুর ক্ষেত্র থেকে ২০০৯ সালের ১১ মে গ্যাস উত্তোলন শুরু করে বাপেক্স। সেখানে থাকা আগের চারটি কূপের মধ্যে তিনটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা হচ্ছে। শাহবাজপুরে মোট ৩৫ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে বাপেক্সের প্রকৌশলীদের ধারণা।

ভোলায় গ্যাস থাকলেও তার বাণিজ্যিক ব্যবহার নেই। শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে মোট চারটি কূপ খনন করা হয়েছে, যার মোট উত্তোলন ক্ষমতা দৈনিক আট কোটি ঘনফুট। কিন্তু ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় দুটি কূপ বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্য দুটি দিয়ে দৈনিক চার কোটি ঘনফুট উত্তোলন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্য গ্রাহকদের চাহিদা মিটানো হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগের বিপরীতে বাপেক্সের কোনো লাভ হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহককে গ্যাস দিতে হয়।

উৎপাদিত গ্যাসের ৪২ শতাংশ যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে; ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয় ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রে। আর ১৭ শতাংশ গ্যাস শিল্প কারখানায়, ১১ শতাংশ আবাসিক সংযোগে, ৭ শতাংশ সার কারখানায় এবং ৬ শতাংশ গ্যাস যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

Comments

comments