মা-ছেলেকে যেভাবে হত্যা করে জনি

নিউজ ডেস্কঃ

রাজধানীর কাকরাইলে মা শামসুন্নাহার করিম ও ছেলে সাজ্জাদুর করিম শাওনকে হত্যার ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার করেছেন গ্রেফতার আসামি আল-আমিন জনি। শনিবার ভোরে গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচাল মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, চার বছর আগে অভিনেত্রী শারমিন মুক্তার সঙ্গে বিয়ে হয় আবদুল করিমের। মুক্তা তার মা ও ভাই জনিকে নিয়ে পল্টনের একটি বাসায় বসবাস করে আসছেন। করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পর করিমও তাদের সঙ্গে থাকতেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুফতি মাহমুদ বলেন, বিয়ের পর থেকে করিম ও মুক্তার মধ্যে বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। করিমের অধিকাংশ সম্পত্তির মালিক প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার হওয়ায় এ নিয়ে মুক্তার মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের প্ররোচনায় তিন-চার মাস আগে তৃতীয় স্ত্রী মুক্তাকে ডিভোর্সের প্রক্রিয়া শুরু করেন করিম। বোনের স্বার্থ বিবেচনায় পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী শামসুন্নাহারকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন জনি।
জনি র‌্যাবকে জানায়, ঘটনার আগের দিন ৩১ অক্টোবর জনি নিউমার্কেট থেকে ১,১০০ টাকায় একটি ছুরি কিনে আনেন। পরদিন বুধবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কাকরাইলের বাসায় ঢুকে শামসুন্নাহারের ছোট ছেলে শাওনকে প্রথমে ছুরিকাঘাত করে চুপ করে বসে থাকতে বলেন। পরের টার্গেট শামসুন্নাহারকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তখন শাওন এগিয়ে গেলে তার গলাতেও ছুরি দিয়ে আঘাত করেন জনি।

একপর্যায়ে শাওন দৌড়ে নিচে নামতে চাইলে জনি তাকে থামতে বলেন। চতুর্থ তলার সিঁড়িতে শাওন পড়ে যান। তখন তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন জনি।
ছুরিকাঘাত করার সময় জনির দুটি আঙুলও কেটে যায়। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় জনিই দারোয়ানকে বলেন, ‘উপরে যান, ৫তলায় ঝামেলা হচ্ছে।’
জনি আগে থেকেই একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ব্যাগে করে জামা-কাপড় রেখে যান। সেখানে গিয়ে রক্তাক্ত পোশাক পরিবর্তন করে ভিন্ন নামে ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এরপর ঢাকাতেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেন জনি। পরে গোপালগঞ্জে আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে যান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘খুনের পরিকল্পনায় করিম ও মুক্তা জড়িত কি না আমরা এখনো জানতে পারিনি। খুনের সময় জনির সঙ্গে বাড়ির আশেপাশে আরও কেউ ছিল কি না তা তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে ৭৯/এ নম্বর বাড়িতে গলা কেটে শামসুন্নাহার (৪৫) ও তার ছেলে শাওনকে (১৮) গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এঘটনায় আবদুল করিম ও মুক্তাকেও আটক করা হয়েছে।

Comments

comments