বীজ কোম্পানির প্রতারণার শিকার শতাধিক ফুলকপি চাষী

নিউজ ডেস্কঃ

বীজ কোম্পানির প্রতারণায় মেহেরপুরে ফুলকপি চাষীদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। চলতি মৌসুমে চাষীরা হোয়াইট রাজা নামের বীজ জমিতে রোপণ করে প্রতারণার শিকার হয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন। শত শত চাষীর এখন মাথায় হাত।

ধারদেনা করে কপির চাষ করে তাদের সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। চাষীরা বলছেন তাদের এই ক্ষতির পরিমাণ চার কোটি টাকার উপরে।
গত কয়েক বছর ধরে জেলার চাষীরা আগাম কপি চাষ করে লাভবান হয়ে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও তারা আগাম ফুলকপির চাষ করেছেন।

সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শতাধিক চাষী তাদের ৫০০ বিঘার উপরে জমিতে হোয়াইট রাজা নামের ফুলকপির হাইব্রিড জাতের বীজ রোপণ করেন। বর্তমানে বাজারে অনেক চাষী অন্য বীজ রোপণ করে কপি বাজারজাত করলেও শত শত চাষী জেবিটি কোম্পানির হোয়াইট রাজা নামের বীজ রোপণ করে গাছে ফুল আনতে পারেননি। এখন এই বীজ রোপণ করে নিঃস্ব হতে বসেছেন তারা।
৬৫ দিনে দুই থেকে আড়াই কেজি করে কপির ফলন হবে এমন প্রলোভনে পড়ে এই বীজের চারা জমিতে লাগিয়েছিল।
চাষীরা বলছেন, ৯০ দিন পার হয়ে গেলেও ১০০ গ্রাম করেও ফলন পায়নি। অথচ এলাকার অনেক চাষী একই সময় অন্য বীজ ব্যবহার করে এখন কপি বাজারজাত করে বিঘা প্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা করে ঘরে তুলছে। এক বিঘা জমিতে কপি চাষ করতে খরচ হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। খরচ উঠা তো দূরের কথা জমি থেকে কপির গাছ তুলে ফেলে দিচ্ছেন চাষীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষী লিয়াকত আলী বলেন, ভালো লাভের আশায় এনজিও থেকে সুদের উপর ২০ হাজার টাকা লোন নিয়ে এক বিঘা জমিতে হোয়াইট রাজা ফুলকপির বীজ রোপণ করেছিলাম। কিন্তু, বীজে সমস্যা থাকায় গাছে ফুল আসেনি। এখন চিন্তা কি করে এই টাকা পরিশোধ করব।
চাষীরা জানান, আমরা এ বছর হোয়াইট রাজা নামের কপির বীজ রোপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। জমি থেকে ফুলকপির গাছ তুলতে এখন ঘর থেকে আরও ৫-১০ হাজার টাকা লাগছে। বীজ কোম্পানির প্রতারণার শিকার হয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। গত বছর এই বীজ রোপণ করে আমরা লক্ষ টাকা ঘরে তুলেছিলাম। কিন্তু, এবার বীজের ডিলারের কারণে আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমাদের বীজের ডিলার আসল বীজ না দিয়ে নকল বীজ দিয়েছে। এজন্য গাছে কোনো ফুল আসেনি। আমরা এই বীজে ডিলারের নামে আদালতে মামলা করব।
মেহেরপুর বড়বাজারের হোয়াইট রাজা বীজের ডিলার দয়াল রাজা ফুল না আসার কথা অস্বীকার করে বলেন, আগাম কপির বীজ রোপণ করায় গাছে ফুল আসেনি। বীজের কোনো সমস্যা নেই।

মেহেরপুর জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার আক্তারুজ্জামান জানান, হাইব্রিড জাতের বীজের ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা চাষীদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে শতাধিক কৃষক বীজ কোম্পানির প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বীজের সমস্যার কারণে গাছে ফুল আসেনি বলে আমরা ধারণা করছি।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আইনের আওতায় গিয়ে ডিলার ও কোম্পানির নামে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

Comments

comments