পশুখাদ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ স্টেরোয়েড

নিউজ ডেস্কঃ

দেশের বাজারে গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে স্টেরোয়েড মিশ্রিত হরেক নামের খাবার অবাধে বিক্রি হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে গরুকে মোটাতাজা করণে স্টেরোয়েড ইনজেকশন বা ট্যাবলেটের কথা শোনা গেলেও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে কৌশল বদলেছে। বাজারে অ্যানিমেল ফিডে (পশুখাদ্য) স্টেরোয়েড মিশিয়ে তা বিক্রির অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে নামিদামি এসব প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার ল্যাবরেটরি প্রতিবেদনে এ ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘গোপন সূত্রে স্টেরোয়েড মিশ্রিত অ্যানিমেল ফিড বিক্রি হচ্ছে -এমন তথ্য জানতে পেরে বাজার থেকে নামিদামিসহ ৭/৮টি কোম্পানির অ্যানিমেল ফিড ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।’

‘ল্যাবে নমুনা পরীক্ষাতে একটি অখ্যাত কোম্পানি ছাড়া সব ক’টি কোম্পানির পশুর খাবারে স্টেরোয়েড পাওয়া গেছে। গবাদিপশু লালন-পালনকারীরা এ তথ্য না জেনেই ভালোখাবার মনে করে তা পালিত পশুকে খাওয়াচ্ছেন।’

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘ইনজেকশন বা ট্যাবলেট খাওয়ানোর ক্ষেত্রে আইনগত ঝামেলা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিধান থাকার পরেও কোম্পানিগুলো সরাসরি খাবারে স্টেরোয়েড মেশাচ্ছে।’

গরুকে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খাওয়ালে তা যেমন গরুর জন্য ক্ষতিকর, তেমনি ওই গরুর মাংসও বিষাক্ত হয়। এসব মাংস ফরমালিনের মতো মানুষকে ধীরে ধীরে নিস্তেজ করে দেয়। এতে মানুষ লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র, পুরুষত্ব ও মাতৃত্বহীনতাসহ বিভিন্ন অঙ্গ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে কোন কোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পশু খাদ্যে এ স্টেরোয়েড পাওয়া গেছে তা জানা যায়নি। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, গরুর খাবারে স্টেরোয়েড মেশানের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। ফলে এখনই নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

Comments

comments