ঝিনাইদহে ৪ বছরে উচ্চমূল্যের ফসলের আবাদ বেড়েছে

নিউজ ডেস্কঃ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় গত ৪ বছরে উচ্চমূল্যের ফসলের আবাদ বেড়েছে কয়েক গুণ। এর মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, আউশ, আমন ধান, ফুল, গ্রীষ্মকালীন তরমুজ, কলা, আম ও পেপের আবাদ। এতে কৃষিতে নিরব বিপ্লব ঘটছে বলে মনে করছেন সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। বর্তমান ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫’শ হেক্টর জমি।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩’শ মেট্রিকটন ভূট্টা উৎপাদন হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৮ হাজার মেট্রিকটন-এ। যা থেকে আয় হয়েছে ৫২ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৬’শ ৭০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল আউশ ধান। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২২’শ হেক্টর জমি। এছাড়াও গত ৪ বছরে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেড়েছে ফুল, গ্রীষ্মকালীন তরমুজ, কলা, আম ও পেপের আবাদ। এতে আয় বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে ওসব এলাকার কৃষকদের।
সদর উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের কৃষক আতর আলী জানান, বর্তমানে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি বিভাগ নতুন নতুন প্রযুক্তি কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আগের চেয়ে বেশি জমিতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ করতে পারছেন তিনি।
কৃষক আতর আলী বলেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মোঃ মনিরুজ্জামানের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় তিনি বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ করছেন। এতে তিনি ব্যবহার করছেন জৈব সার ও শতভাগ জমিতে লাইন, লোগো ও পার্চিং। এতে উৎপাদন খরচ হয়েছে কম, সেই সাথে বেড়েছে ফলন।
আউশে ফলন ভালো হওয়ায় আমন মৌসুমে তিনি ওই একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। এতে ভালো ফলন হওয়ার আশা তার।
মধুহাটির কৃষক রমজান জানান, গত ২ বছর আগেও তিনি মাত্র ১০ কাঠা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন। কিন্তু সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি বর্তমানে ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করছেন। ফলন বেশি পাওয়ায় খুশি তিনি।
আগামীতে আরও জমিতে ভুট্টার আবাদ করবেন বলে আশাব্যক্ত করেন।
গান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মালিতা বলেন, ২০১৩ সালে ড. খান মোঃ মনিরুজ্জামান যোগদান করার পর থেকে এক মাঠ থেকে অন্য মাঠে ছুটে কৃষকের মাঝে নতুন নতুন প্রযুক্তির সেবা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ধান, ভূট্টা, সরিষা, ফুল, তিল ও শাক সবজি বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে কৃষিতে ঝিনাইদহ তথা বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মো: মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষকদের উন্নয়নের জন্য আমার সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছি। কৃষিবান্ধব সরকারের ভিশন-২১ বাস্তবায়নের জন্য উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে পরিবেশের স্বাস্থ্য সমুন্নত রেখে নতুন নতুন টেকসই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। যে কারণে সদর উপজেলায় বেড়েছে শস্য নিবিড়তা। আশা করি কৃষি বান্ধব সরকারের ভিশন-২১ বাস্তবায়নে সদর উপজেলা কৃষককুল উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

Comments

comments