ফোরাম ও সোনালীদলের সমঝোতার অভাবে নয় মাসেও হচ্ছে না বাকৃবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচন

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শিক্ষক সমিতির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত মার্চ মাসে। শিক্ষকদের দুই প্যানেলের সমঝোতার অভাবে হচ্ছে না নির্বাচন। নয় মাসের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম। নির্বাচনী কিছু আচরণবিধি নিয়ে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সোনালীদলের মাঝে সমঝোতার অভাবেই নির্বাচন হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে অনেকবার সভা করার পরও সমঝোতায় আসতে পারেনি দুই প্যানেল। শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক সমাজের মাঝে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন সিনিয়র শিক্ষকরা। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম অবাধ সুষ্টু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষক সমিতি গঠনের মধ্যদিয়ে শিক্ষকদের মানমর্যাদা রক্ষা ও শিক্ষকদের ন্যায়সংগত সকল অধিকার বাস্তবায়নে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানান।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, ভোট প্রদানের পর ওই ব্যালট পেপারের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে জটিলতায় নয় মাস ধরে আটকে আছে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। চলতি বছরের গত ৯ মার্চ শিক্ষক সমিতির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কমিটির মেয়াদ নয় মাস পেড়িয়ে গেলেও ব্যালটের ছবি তোলার বিষয়ে সমঝোতায় না আসায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালীদল ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম অনতিবিলম্বে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। পৃথক বিবৃতির মাধ্যেমে ওই দুই শিক্ষক সংগঠন অতিদ্রুত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু কমিটির মেয়াদ নয় মাস পেড়িয়ে গেলেও এখনও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

বিগত শিক্ষক সমিতির কার্যকাল গত ০৯ মার্চ শেষ হয়। শিক্ষক সমিতির অস্তিত্ব ১০ মার্চের পর থেকে আর নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রোভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম এবং সোনালী দলের ৫ জন করে প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন বিষয়ে এ পর্যন্ত ৮টি সভা করা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনকে সকল বিতর্কের উর্দ্ধে রাখার স্বার্থে ভোটদানকৃত ব্যালটের গোপণীয়তা রক্ষা করতে হবে। ব্যত্যয় হলে প্রো-ভিসির নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সর্বশেষ সভার (মেমো নং ৮৩ পত্রের) ৩নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ব্যবস্থা নিবেন। সিদ্ধান্তটি গত নির্বাচনের আচরণ বিধি নং-১৩ এর জায়গায় প্রতিস্থাপিত হবে। তিনি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানান।

নির্বাচনী আচরণ বিধির ১৩নং- এ ব্যালটের ছবি তোলা নিষিদ্ধ এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে।

অপরদিকে সোনালীদলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম হারুণ-অর রশিদ দাবি করেন, নির্বাচনে গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যালট পেপারের ছবি তোলা যাবে না এবং এ বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধির ১৩নং ধারাটি বহাল রাখতে হবে।

এদিকে সোনালীদলের এ দাবির সাথে একমত হতে পারেনি গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম। এ উভমুখী দ্বদ্বে আটকে আছে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কার্যক্রম।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির বিগত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী অতিদ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত।

Comments

comments