দিনাজপুর হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ৬ শিক্ষক লাঞ্ছিতঃ পাল্টা-পাল্টি মামলা-কর্মসূচী

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুরঃ

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষে সোমবার রাতে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিক্ষক লাঞ্ছিত ও হামলার ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। এ ঘটনার পর প্রতিশীল শিক্ষক ফোরাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোতয়ালী থানায় অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভাইস চ্যান্সেলরের পক্ষের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ভাইস চ্যান্সেলরের পক্ষের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের বিরুদ্ধে ভাইস চ্যান্সেলরকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর মিজানুর রহমান, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের ডীন প্রফেসর ডা. ফজলুল হক, ড. শাহাদৎ হোসেন খান প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে সোমবার রাতে ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের পক্ষের শিক্ষার্থী কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনায় সোমবার রাত ১১টায় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. বলরাম রায় বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে এই হামলার ঘটনায় প্রক্টর ড. খালিদ হোসেন, সহকারী প্রক্টর সাইফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম, মারুফ, রিয়াদ, রনি, রবিসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দেড়’শ জনকে আসামি করা হয়।
অপরদিকে ভাইস চ্যান্সেলরকে লাঞ্ছিত ও ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষে ভাংচুরের অভিযোগ এনে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে একটি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে হাবিপ্রবি’র রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনি কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে দু’টি অভিযোগই মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এজাহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, অভিযোগের ব্যাপারটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম-২ তে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম তাদের উপর হামলা, দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। বৈঠকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সময় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. আনিস খান, সংগঠনের সহ-সভাপতি ও সাবেক রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সাইফুর রহমান, হাবিপ্রবি’র প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. বলরাম রায়, সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. এটিএম শফিকুল ইসলাম, সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিস অনুষদের ডীন ড. মোহাম্মদ ফেরদৌস মেহেবুব, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ডা. এসএম হারুন-উর-রশিদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন, প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফোরামের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
হাবিপ্রবি’র প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. বলরাম রায় জানান, ফোরামের শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় পরবর্তী কর্মসূচির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে সোমবার রাতের অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে হাবিপ্রবিতে এখন বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা। যে কোনো মূহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
হাবিপ্রবি’র প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেন ক্যাম্পাসে কিছুটা উত্তেজনার কথা স্বীকার করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও অন্যান্য কর্মকান্ড যথারীতি চলছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে গত শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম। এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক ডা. এসএম হারুন উর রশিদ। এই ঘটনায় সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডা. এসএম হারুন উর রশিদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করে ওই পদে প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন খানকে দায়িত্ব দেয়। এই ঘটনার পরপরই শিক্ষকরা সোমবার বিকেল ৪টা থেকে ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষের মেঝেতে বসে অবস্থান ধর্মঘট শুরু কওে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা।
কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে রাত ৮টার দিকে ভিসি ড. মু. আবুল কাসেমের সমর্থক একদল শিক্ষার্থী তার কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় তারা প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের উপর হামলা চালায় এবং অবরুদ্ধ ভাইস চ্যান্সেলরকে তার কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় ৬ জন শিক্ষক আহত হয়।

Comments

comments