এ কোন রহস্যময় রোগে মারা যাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার গ্রামবাসীরা?

নিউজ ডেস্কঃ

এ ব্যাপারে কারোই সন্দেহের অবকাশ নেই যে উত্তর কোরিয়ায় মানবতার বিপর্যয় তেমন নতুন কিছু নয়। মাউন্ট মানতাপের কাছে অবস্থিত পানগি-রি নিউক্লিয়ার টেস্ট সাইট এর আগেও বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছে। এই এলাকায় বিকলাঙ্গ শিশু, নদীতে ভেসে আসা মরদেহ এসবের খবর প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। সম্প্রতি এই এলাকাটি থেকে শোনা যাচ্ছে রহস্যময় এক রোগের গুজব, যাতে মারা যাচ্ছে প্রচুর মানুষ।

ওই এলাকা থেকে পালিয়ে আসা মানুষরা জানান, তারা এই রোগকে বলেন ‘গোস্ট ডিজিজ’। তাদের মতে নিউক্লিয়ার সাইটের তেজস্ক্রিয়তার কারণে তাদের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে দুর্বলতা, শরীরে ক্ষত এবং এটাই শেষ নয়, অনেকেই মারাও যাচ্ছেন এর কারণে। কিলজু এলাকা থেকে পালিয়ে আসা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি জানান, আন্ডারগ্রাউন্ড টেস্ট সাইটের ওপরে থাকা এই এলাকায় প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছেন।

“আমরা ভেবেছিলাম আমরা গরীব আর খেতে পাই না বলে মারা পড়ছিলাম। কিন্তু এখন আমরা জানি এর জন্য তেজস্ক্রিয়তাই দায়ী,’ বলেন পালিয়ে আসা লি জিওং হুয়া।

বিগত কয়েক মাস থেকে পানগি-রি এলাকার মানুষের অসুস্থতা এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর জানা যাচ্ছে। এই নিউক্লিয়ার সাইট মাটির অনেক নিচে হলেও, এই এলাকার ভুতাত্বিক কাঠামো দুর্বল হবার কারণে এই তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব মাটির ওপরেও দেখা যেতে পারে। কেউ কেউ ধারণা করেন এই এলাকাটি “টায়ার্ড মাউন্টেইন সিনড্রোম’ এ আক্রান্ত। বারবার বিস্ফোরণ ঘটানোর ফলে এসব এলাকার পাথর ঝাঁঝরা হয়ে যায় এবং এর মধ্যে দিয়ে ওয়াটার টেবল নেমে যায়।

তবে এই এলাকায় কোন বহিরাগত গবেষককে প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে না, ফলে নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না আসলে এই এলাকায় কতটা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাব ফেলছে। উত্তর কোরিয়াতে আগে থেকেই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে প্রচুর মানুষ। এর পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও পয়ঃনিষ্কাশনের অভাব তো আছেই। পানিবাহিত রোগেও প্রচুর মানুষ অসুস্থ হয় ও মৃত্যুবরণ করে। তাই তাদের অসুস্থতার পেছনে এসব কারণও থাকতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা এসব মানুষকে পরীক্ষা করা হলে তাদের শরীরে তেজস্ক্রিয়তার কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তারমানে এই না যে তারা অসুস্থতার ব্যাপারে মিথ্যা বলছে। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে ওই এলাকার জীবনযাত্রার মান খুবই খারাপ। এক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার ভূমিকা কতটুকু, তা এখনো অনিশ্চিত।

Comments

comments