দিনাজপুরে পেঁয়াজের ঝাঁঝে জ্বলছে ভোক্তার চোখ

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকেঃ

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দু’দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দর বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা।দেশে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানান আমদানিকারকরা। বিপাকে পড়েছেন পাইকাররাও।দেশী পেঁয়াজ বাজারে আসলেও পেঁয়াজের ঝাঁঝ যেন কমছেই না। কিছুদিন আগে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে এলসি মূল্য বাড়িয়ে ৮শ’ ৫২ ডলার নির্ধারণের পর একদফা বাড়ে পেঁয়াজের দর। এরপর আবারো কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬২ টাকা দরে। বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা থাকায় অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

আমদানিকারকরা জানান, ‘আমদানি কম হওয়ার কারণে পিয়াজের দাম গত দু’দিনে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়ে গেছে। আমরা কিভাবে পিয়াজ কিনবো আর কিভাবে তা বিক্রয় করবো তা বুঝতে পারছ না। ব্যবসা করতে যেয়ে আমাদের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।’হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়েছেন পাইকাররা।

পাইকাররা জানান, ‘পিয়াজের বাজার ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে। দাম নামার কোনো লক্ষণ পাচ্ছি না। পিয়াজের দাম আগুনের মত বাড়ছে।’ এসময় তারা অভিযোগ করেন, ‘মাল প্রচুর আছে কিন্তু সাপ্লাই দিচ্ছে কম।

হিলি কাস্টমস জানায়, গত ৩ দিনে এ বন্দর দিয়ে ১শ’ ট্রাকে ২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

এদিকে দিনাজপুর জেলা শহরে খুচরা বাজারে কয়েকদিনের ব্যবধানে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি কেজি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। একই সঙ্গে ১০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। এদিকে পাইকারি বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের দর কমেছে বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। মূলত দেশীয় পেঁয়াজের মজুদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি এখনো নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। সেই সঙ্গে দাম বাড়ায় ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি কমেছে বলেও জানান তারা। আগামী দু’এক সপ্তাহের মধ্যে দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এদিকে পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। তারা বলেন, হুট করে এভাবে দাম বাড়ায় পেঁয়াজ কিনতে সাহস পাচ্ছি না আমরা। মনে হচ্ছে সিন্ডিকেট করেই বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম।

চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। গত এক মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পাইকাররা বলছেন বছরের শেষ দিকে এসে কমেছে দেশি পেঁয়াজের মজুদ। তাই আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এই সুযোগে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। দ্রুত আমদানি বাড়ানো না গেলে পেঁয়াজের দর সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা পাইকারী ব্যবসায়ীদের।

চলতি মাসের শুরু থেকেই অস্থিতিশীল হতে থাকে দেশের পেঁয়াজের বাজার।

ঊর্ধ্বমুখী দেশি পেঁয়াজের দাম। তবে, দু’এক দিনের মধ্যে দাম কমার সম্ভাবনার কথা বলছেন পাইকাররা। স্বস্তির খবর নেই চালের বাজারেও। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বাড়াতে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজের ঝাঁঝে চোখ জ্বলছে ভোক্তার।

Comments

comments