টানা বৃষ্টিপাতে উপকূলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

নিউজ ডেস্কঃ

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে টানা চারদিনের মতো বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। দফায় দফায় হালকা ও লাগামহীন বৃষ্টিপাতের কারণে জনজীবন হয়ে পড়েছে স্থবির। শহরের বেশকিছু স্থানে ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় আরো বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

গত শুক্রবার থেকে টানা চারদিনের অকাল বৃষ্টিতে গোটা উপকূলজুড়ে কৃষকের পাকা আমন ধানসহ সবজি চাষীদের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

কৃষকরা জানান, অকাল বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি আমন মৌসুমে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। আমন এবং ইরি ধানগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে।

১৫ থেকে ২০ দিন পর যে ধান কৃষকরা গোলায় নিতে পারতো তা এখন মাটি এবং পানির সাথে মিশে গেছে। বৃষ্টির কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে ইদুর এবং পোকার উপদ্রব। ফলে এ বছর আমনের ভালো ফলন হলেও অকাল বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত জানান, এই বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষিখাতে ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। কোনো কোনো এলাকার ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবার কোনো এলাকার ধান কাটা এখনও উপযোগী হয়নি। আবহাওয়া এভাবে চলতে থাকলে তরমুজ, খেসারি ডাল, ফেলন ডাল এবং সরিষার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর এলাকায় তরমুজ চাষিরা তরমুজ আবাদের প্রক্রিয়ায় শুরু করেছেন। কোনো কোনো এলাকায় ইতোমধ্যে তরমুজের বীজ রোপণ করা সম্পন্ন হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় রোপণ প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এ বৃষ্টির কারণে তরমুজের রোপণকৃত বীজ অথবা চারার গোড়ায় পচন ধরে তা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আগামী তরমুজ মৌসুমে চাষীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

কৃষক বসির হাওলাদার জানান, তিনি এ বছর দশ একর জমিতে তরমুজের বীজ রোপণ করেছেন। বৃষ্টির কারণে তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। একই উপজেলা কাছিয়াবুনিয়ার তরমুজ চাষী সাখাওয়াত হোসেনের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

Comments

comments