শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারের মেয়াদ পূর্তির শেষ বছরে বাড়লো মন্ত্রিসভার আকার। সেখানে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগ হয়েছে নতুন চার মুখ। তাদের মধ্যে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রথমে তিন মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মোস্তফা জব্বার ও শাহজাহান কামালকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। এরপর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজী কেরামত আলীকে শপথবাক্য পাঠ করান তিনি।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

নতুনদের মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস- বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার নির্বাচিত সাংসদ না হওয়ায় তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হয়।

মন্ত্রিসভার নতুন এই সদস্যদের বঙ্গভবনে নিয়ে যেতে বিকালে সচিবালয় থেকে পাঠানো হয় চারটি গাড়ি। শপথের জন্য বিকালে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তারা সবাই বঙ্গভবনে পৌঁছে যান।

আগে থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারের প্রথম থেকেই মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৭ ডিসেম্বর ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে ১৭ ডিসেম্বরের পর থেকে পদটি ফাঁকা ছিল।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “তিনজন নতুন এবং পুরনো থেকে একজন মন্ত্রী হচ্ছেন। আর দুজন নতুন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। চারজন মন্ত্রী হচ্ছেন, গণমাধ্যমে ঠিকই এসেছে।”

বিরোধী দলের নির্বাচন বর্জনের মুখে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি গঠিত বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যে তিনবার রদবদল হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রথম রদবদল হয়েছিল শপথ গ্রহণের মাস দেড়েক পর ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

ওইদিন আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে (এমএইচ মাহমুদ আলী) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রায় দেড় বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হন নতুন পাঁচজন। তাদের মধ্যে ওইদিন আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

একইদিন মন্ত্রী হিসেবে আরও শপথ নেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। সেদিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ) এবং নুরুজ্জামান আহমেদ (সমাজ কল্যাণ)।

মন্ত্রিসভায় সর্বশেষ রদবদল হয় ২০১৫ সালের ৯ জুলাই। ওই রদবদলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।

একইদিন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বদলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এক সপ্তাহ পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩১ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুই জন রয়েছেন উপমন্ত্রী। এছাড়া, মন্ত্রীর পদমর্যাদায় রয়েছেন পাঁচ জন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ দূত।

Comments

comments