এক গাছে ২০০ লাউ হাসি ফুটিয়েছে কোহিনুরের মুখে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লাউ চাষে সফলতা পেয়েছেন গৃহবধূ কোহিনুর বেগম। মাত্র একটি গাছ থেকে ফলিয়েছেন প্রায় দুই’শ লাউ। আর এ লাউ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে প্রায় বিশ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।

উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী মো. গাজী আ. রহমানের স্ত্রী কোহিনুর বেগম(৪০)। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার কহিনুরের।

প্রতিবন্ধী স্বামী গাজী আ. রহমানের এক সময় বেড়িবাঁধের বাইরে অনেক জমিজমা ছিল। নদী ভাঙনে তা বিলীন হয়ে যায়। গাজী রহমান বর্তমানে যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে সংসারের খরচ বহন করে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

স্ত্রী কোহিনুর এক প্রতিবেশীর পরামর্শে গত আশ্বিন মাসে পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপা থেকে দেশীয় জাতের একটি লাউ চারা কিনে বেড়িবাঁধের বাইরে বাড়ির উঠানে বপন করেন।

চারা ক্রমান্বয়ে বড় হলে তা মাচায় স্থানীয় ভাষায় জাঙ্গিতে তুলে দেয়। কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়াই ঠিকমত পরিচর্যা, প্রয়োজনমত দেশীয় সবুজ সার এবং গোবর সার প্রয়োগ করেন। লাউ গাছটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে কোহিনুরের। লাউ গাছের বয়স তিন মাস অতিবাহিত হলে লাউ ধরা শুরু করে এবং পুরো উঠান (তিন শতক) জুড়ে লাউ শাকে ভরে যায়। শুধুমাত্র একটি গাছ থেকে তিনি প্রায় দুইশটি লাউ ফলান।

প্রতিটি লাউ প্রায় ৮ থেকে ১৫ কেজির মতো ওজন হয়। স্থানীয় বাজারে প্রতিটি লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি করেন।

এছাড়া তিনি লাউ গাছের ডগার শাকও বিক্রি করেন। আর এ লাউ থেকে এবছর তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ছাড়াও সংসারের অভাব অনেকটাই দূর করেছেন।

প্রতিবছরই কোহিনুর বেগম লাউ গাছ বপন করেন। কিন্তু এ বছর তিনি একটি গাছ থেকে প্রায় দুইশটির মত লাউ বিক্রি করে রেকর্ড করেছেন। অল্প সময়ে হয়েছেন লাভবান। হয়েছেন স্বাবলম্বী। আর এ কোহিনুর বেগমের সফলতা দেখে দেবপুর গ্রামের অনেকেই শুরু করেছেন লাউ চাষ।

কোহিনুর বেগম বলেন, লাউ চাষ করে সংসারের হাল ধরেছি। এছাড়া ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচও বহন করছি। প্রতি বছরই লাউ গাছের চাষ করেছি, তবে এ বছর শুধুমাত্র একটি গাছ থেকে দুইশটির মত লাউ বিক্রি করেছি।

প্রতিবেশী মো. সুলতান হাওলাদার বলেন, একটি গাছে প্রায় দুইশটি লাউ ফলিয়ে কোহিনুর বেগম রেকর্ড করেছেন। তার দেখাদেখি এ গ্রামের অনেকেই লাউ চাষ শুরু করেছেন।

চম্পাপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, একটি লাউ গাছে সাধারণত ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০টা ফল হয়। উচ্চ ফলনশীল জাতের এ লাউ গাছে দুইশটির মত ফল হয়েছে। এটা আসলে দেখার মত।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.মসিউর রহমান জানান, এটি একটি জেনেটিক্যাল পরিবর্তন। উচ্চ ফলনশীল জাতের গাছে ভালমত পরিচর্যা করলে অনেক বেশি ফলন হতে পারে।

Comments

comments