কেন পাখিরা পথ হারায় না?

নিউজ ডেস্ক:

প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে অতিথি পাখি! হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তারা দেশের নানা নদী-নালা ও হ্রদে সমাবেশ ঘটায়। এসময়টায় স্থানগুলো পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠে। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে সাগরের ওপর দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেও এরা কিন্তু পথ হারায় না।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্কটিক টার্ন নামের এক জাতের পাখি দক্ষিণ মেরু থেকে উড়ে প্রতি বছর ইউরোপের দেশগুলোয় আসে আবার গ্রীষ্ম মৌসুম শেষ হলে ফিরে যায়। আর্কটিক টার্নের এই অসাধারণ ক্ষমতা কোথা থেকে আসে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার শেষ নেই! প্রতিবছর এত নির্ভুলভাবে কিভাবে তারা একই জায়গায় এসে পৌঁছায় তাও এক রহস্য।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন, সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার সময় আর্কটিক টার্ন তাদের ঘ্রাণশক্তিকে কাজে লাগায়। কিন্তু অক্সফোর্ড, বার্সেলোনা এবং পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেছেন তা সঠিক নয়!

পরীক্ষার জন্য তারা সমুদ্র দিয়ে উড়ে আসা কিছু পাখির ঘ্রাণশক্তি সাময়িকভাবে নষ্ট করেন। এরপর সেসব পাখিকে আকাশে ছেড়ে দেয়ার পর অবাক হয়ে দেখেন ঘ্রাণশক্তি নষ্ট হলেও তারা ঠিকই পথ চিনে উড়ে যেতে পারছে। অবশ্য সমুদ্র দিয়ে ওড়ার সময় তারা কিছুটা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে।

ফলে বিজ্ঞানীরা নতুন সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, পাখিদের মস্তিষ্কে আগে থেকেই গন্ধের মাধ্যমে আঁকা মানচিত্র তৈরি হয়ে যায়। ফলে সমুদ্রের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় চোখে কিছু দেখতে না পেলেও তারা গন্ধ শুঁকে সঠিক পথ বের করে নেয়। সেটাই তাদের জিপিএস হিসেবে কাজ করে।

অবশ্য বিজ্ঞানীদের অপর পক্ষ সেই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, পাখির ঘ্রাণশক্তি নষ্ট হলে অন্যান্য ক্ষমতাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পাখিরা ঠিকমত গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে না। পর্যটক পাখিদের পথ পাড়ি দেয়ার ক্ষেত্রে নির্ঘাত অন্য কোনো ক্ষমতা কাজ করে।

Comments

comments