দুর্নীতি মামলায় লালু প্রসাদকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ ভারতীয় রুপি জরিমানা করেছেন আদালত। পশুখাদ্য ক্রয় কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় রাঁচিতে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত তাকে এ সাজা দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

সাজা ঘোষণার আগে লালুর ছেলে ও আরজেডি দলের নেতা তেজাশ্বরী যাদব বিচার বিভাগের উপর আস্থা রাখার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা সাজার রায় শোনার পর উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন জানাব।’ এই সপ্তাহে তিন বার স্থগিত হওয়ার পর শনিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণাকালে বিচারক শিবপাল সিং তিরস্কার করে বলেন, ‘আসামিদের খোলা কারাগারে রাখাই উপযুক্ত হবে, কারণ তাদের গরু পালনের অভিজ্ঞতা আছে।’

সিবিআই আদালত গত ২৩ ডিসেম্বর ভারতের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রধানসহ আরও ১৫ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে বিহারের দেওঘর জেলার কোষাগার থেকে ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৩ সালে করা এ সংক্রান্ত ৫টি মামলার প্রথমটিতে লালু যাদব দোষী সাব্যস্ত হন। এজন্য তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে রাঁচির বিরসা মুন্ডা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

দ্বিতীয় মামলায় স্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে সর্বনিম্ন সাজার আবেদন করেছিলেন লালু প্রসাদ যাদব। তার আইনজীবী চিত্তরঞ্জন সিনহা জানিয়েছিলেন, লালু প্রসাদ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ভুগছেন। তার বয়স বিবেচনা করে তাকে সর্বনিম্ন সাজা দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তার আইনজীবী। লালু তার আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘এ কেলেঙ্কারির ঘটনায় আমার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। বয়স ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় সর্বনিম্ন শাস্তির আবেদন করছি।’

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে লালুর বিরেুদ্ধে খাদ্য ক্রয় সংক্রান্ত ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। ১০ দিন পর মামলা থেকে বিহারের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রসহ ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এসব মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে ১১ জন বিচার চলাকালে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন দোষ স্বীকার করেছিলেন। দোষী সাব্যস্ত ১৬ জনের মধ্যে ফুলচাঁদ মণ্ডল, বিক জুলিয়াস ও মহেশ প্রসাদ নামে ভারতীয় প্রশাসনের তিন কর্মকর্তাও রয়েছেন।

Comments

comments