যে চাঁদ দেড়শ’ বছরে কেউ দেখেনি

নিউজ ডেস্ক:

বছরের প্রথম রাতেই চাঁদের বিরল রূপ দেখেছে পৃথিবীর মানুষ। তবে এই মাসের শেষ রাতে চাঁদকে যেমনটা দেখা যাবে তা গত দেড়শ’ বছরে একবারও দেখার সুযোগ কারও হয়নি। এমনটাই দাবি করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাদের হিসেব বলছে, জানুয়ারি মাসের শেষে অর্থাৎ ৩১ তারিখে রাতের আকাশে দেখা যাবে চাঁদের অদ্ভূত সুন্দর রূপ।

ওই রাতে চাঁদকে শুধু বড় আকারেই দেখা যাবে না। একই সঙ্গে পৃথিবীর উপগ্রহটিকে নীল এবং লাল বর্ণে দেখা যাবে। বিজ্ঞানীরা যাকে একই সঙ্গে ব্লু এবং ব্লাড মুন বলে থাকেন। সাধারণত ব্লু এবং ব্লাড মুন একই রাতে দেখা যায় না। কিন্তু সেদিন তাই ঘটবে।

এখানেই শেষ নয়, ওই রাতে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের স্বাদও পাওয়া যাবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সবশেষ ১৮৬৬ সালের ৩১ মার্চ চাঁদের এমন রূপের দেখা মিলেছিল। এরপর আর কখনই একই সঙ্গে দুই রূপ এবং চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়নি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের এমন দৃশ্য পৃথিবীর সব জায়গা থেকে দেখা যাবে না। সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে পূর্ব ও মধ্য এশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকলেও সেখানে এমন দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না। আফ্রিকাতেও না! তবে বাকি স্থানগুলোতে ঠিকই দেখা যাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চাঁদের চলে আসা, এরপর লাল এবং নীলাভ বর্ণ, তার উপর পূর্ণ গ্রহণ.. সব মিলিয়ে বিরল এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন চন্দ্র প্রেমীরা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের মতো।

সাধারণত পৃথিবীকে আবর্তনকালে চাঁদ সবচেয়ে কাছে চলে আসলে সেটিকে সুপার মুন বলে থাকেন বিজ্ঞানীরা। তবে একই রাতে লাল এবং নীল বর্ণের চাঁদ দেখার সুযোগ খুব কমই হয়। সেই সঙ্গে চাঁদের উপর পৃথিবীর ছায়া দেখা গেলে তা বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ। কিন্তু একই রাতে তিনটি ঘটনা কাকতালীয় বলেই মনে করা হয়।

ওই রাতের বিষয়ে কারও কারও মনে আবার রয়েছে নানা আতঙ্ক। তাদের ধারণা, সেই রাতে ঘটে থাকে অদ্ভূত সব আধিভৌতিক ঘটনা। যদিও আধুনিক বিজ্ঞান সেই সব দাবিকে পাত্তা দেয় না। সেগুলো নিছক মনগড়া বলেই জানিয়েছেন তারা।

Comments

comments