পাওয়া গেলো মঙ্গল গ্রহে বিপুল পরিমাণ পানি

নিউজ ডেস্ক:

মঙ্গলে গ্রহে যাওয়া নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে বটে গবেষকদের মাঝে। কিন্তু অনেকেই ভাবছেন, মঙ্গলে গেলে খাদ্য কী করে পাওয়া যাবে? শুকনো খাবার নেওয়া যাবে হয়ত, কিন্তু পানি ছাড়া বাঁচা যাবে কী করে? তাদের সেই চিন্তা বুঝি দূর হলো এবার। গবেষকেরা মঙ্গলের পৃষ্ঠের ঠিক নিচেই বিপুল পরিমাণ পানি খুঁজে পেয়েছেন, যা কিনা মঙ্গলে অভিযানে যাওয়া মহাকাশচারীদের দারুণ কাজে আসবে।

Science জার্নালে প্রকাশিত হওয়া এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন রিসার্চ জিওলজিস্ট কলিন ডানডাস। অ্যারিজোনার এই গবেষক দল মার্স রিকনেসাস অরবিটারে থাকা HiRISE(High Resolution Imaging Science Experiment) যন্ত্রটি ব্যবহার করে এই ফলাফল পান। তারা এমন আটটি স্থান খুঁজে পান যেখানে মাটি ক্ষয়ে গিয়ে বের হয়ে এসেছে প্রচুর পরিমাণ বরফ। কিছু কিছু জায়গায় মাটির মাত্র ১/২ মিটার নিচে এই বরফের স্তর ছিল ১০০ মিটার পুরু।

শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে মাটি যেমন বিভিন্ন স্তরে স্তরে থাকে, তেমনই মঙ্গলের এই বরফের মাঝেও স্তর দেখা যায়। এর অর্থ হলো, মঙ্গলের আবহাওয়ার ইতিহাস খুঁজে বের করতেও কাজে আসতে পারে এই বরফ।

ডানডাস জানান, “কিছু কিছু জায়গায় এই বরফের ওপরে শুধুই ধুলো বা পাতলা মাটির স্তর রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, এই বরফ মাটির একদম নিচেই পাওয়া যাবে।“

গবেষকেরা আগেই ধারণা করেছিলেন যে মঙ্গলে বরফ আছে। কিন্তু এই গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেল যে এই বরফ যথেষ্ট সহজলভ্য। ভবিষ্যতে মঙ্গলের জন্য পাঠানো অভিযান যেমন ২০২১ সালের ইউরোপিয়ান এক্সোমার্স রোভার মিশনে পৃষ্ঠের ২ মিটার নিচে পর্যন্ত ড্রিল করার যন্ত্র থাকবে, তখন এই বরফ নিয়ে গবেষণা করা যাবে সহজেই।

ডানডাস এবং তার গবেষক দলের আবিষ্কৃত এই বরফের অবস্থান দেখে বোঝা যায় বেশ শক্তপোক্ত তা। এটাও বোঝা যায় যায় এক মিলিয়ন বছরের কম বয়স এই বরফের। বরফ থেকে কিছু পাথর খসে পড়েছে বলে দেখা যায়, ফলে ধরে নেওয়া যায় মাটি ও বরফ ক্ষয় হয়ে চলেছে। এছাড়া মঙ্গলের আবহাওয়ায় চাপ কম হওয়াতে বরফ থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় পানি। এ কারণেও বরফ ক্ষয় হয়ে চলেছে।

ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষ পাঠানো হলে তারাও এই পানি কাজে লাগাতে পারবেন। শুধু পান করার কাজে নয়, জ্বালানী হিসেবেও তা ব্যবহার করা যেতে পারে। HiRISE ব্যবহার করে মঙ্গল পৃষ্ঠের মাত্র ৩ শতাংশ পর্যবেক্ষণ করা গেছে, তাই ভবিষ্যতে আরো বেশী পরিমাণে বরফ পাওয়া যেতে পারে বলে আশাবাদী গবেষকেরা।

Comments

comments