টাঙ্গাইলে চরাঞ্চলের ১৪শ হেক্টর জমিতে হচ্ছে ভুট্টা চাষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলগুলোতে কৃষকদের ভুট্টা চাষে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে চাষ হয়েছে ভুট্টার। যমুনা নদীর বুক চিরে জেগে উঠা টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, ভূঞাপুর উপজেলার চরের মাঠ জুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে ভুট্টার গাছে সবুজ পাতা। এ যেন সবুজের এক নবদিগন্ত। আর এর সাথে মিশে আছে ঘাম ঝড়া-রোদে পোড়া কৃষকের স্বপ্ন।

চাষিরা আশা করছেন, পরিবেশ অনুকুলে থাকলে এবার বাম্পার ফলন ভুট্টার।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত চরগুলোতে ১৪শ হেক্টর জমিতে ৯৮৪, ৯৮৭, এসিআই ১১১, এলিট, করবি ১০০ ও মিরাকেল জাতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে।

কৃষি অফিসের হিসাব মতে, প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা একটু বেশি লাভের আশায় এসব অধিকাংশ জমিতে তামাক চাষ করে আসছিল। সম্প্রতি কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে চামাক চাষে জমির উর্বরতা নষ্ট, পরিবেশ দুষণসহ বিভিন্ন ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে।

অন্যদিকে একই জমিতে ভুট্টা চাষ করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব বলেও জানানো হয় চাষিদের। কৃষি অফিসের এমন আশ্বাসে এখন দিগন্ত জোড়া মাঠে বাতাসে দুলছে সবুজ শ্যামল ভুট্টা আর ভুট্টা। চরাঞ্চলের বিশাল মাঠ জুড়ে সবুজ সমারেহের বাতাসে দোলানো ভুট্টার পাতায় জমে থাকা শিশির যেন মুক্তা দানার ঝিলিক। যার সাথে মিশে আছে কৃষকের হাসি।

কালিপুর গ্রামের ভুট্টা চাষি আব্দুল লতিফ জানান, এ বছর তামাক চাষ ছেড়ে দিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন। গত বন্যা ও পরবর্তী সময়ে ভারি বর্ষণে ফসলে যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন তা পুষিয়ে উঠতে পারবেন।

রাজাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য ও ভূট্টা চাষি ওয়াহেদ আলী জানান, এ বছর ভুট্টার ভালো ফলনের আশা করছি। স্যাত স্যাতে আবহাওয়ার জন্য কোথাও কোথাও কাটুই পোকার আক্রমণ ছিল। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সেচ দেয়াতে পোকা ভেসে উঠে, পাখি সেগুলো খেয়ে ফেলে। আর কোনো সমস্যা নাই।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, নিয়মিত ভুট্টা চাষিদের পরামর্শ এবং সরকারি প্রণোদনা দিয়ে আসছি। যেভাবে কৃষক ভুট্টা চাষে মনোযোগী ও পরিচর্যা করছে অন্য ফসলের তুলনায়ন তারা দ্বিগুণ লাভবান হবে বলে আশা করছি।

Comments

comments