বাকৃবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচন: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

অবশেষে ব্যালট প্যাপারের ছবি তোলাকে ক্ন্দ্রে করে সৃষ্ট জটিলতাসহ বেশকিছু বিষয়ে দু’দলের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় দুই বছর পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১৭ জানুয়ারি। নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে ২টি প্যানেলে আওয়ামীপন্থী ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম’ এবং বিএনপিপন্থী ‘সোনালী দল’ অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক প্যানেল পদ্ধতি, প্রার্থীদের ভোট চাইতে শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ধরণা দেওয়াসহ প্রভৃতির সংস্কার প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তাঁরা।

জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সবুজবাংলাদেশ24.কম পরিচালিত এক জরিপের তথ্যানুযায়ী, সাধারণ শিক্ষকদের ৭৭ শতাংশ ‘পদভিত্তিক অরাজনৈতিক নির্বাচন’, ১৯ শতাংশ ‘দলভিত্তিক রাজনৈতিক নির্বাচন’ এবং ৪ শতাংশ শিক্ষক সমিতির নির্বাচনই চান না বলে মত দিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের ইশতেহারের বাস্তবায়নের বিষয়েও শিক্ষকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিরা ব্যর্থ হন বলে দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষকরা। ২০১৮ সালের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের নের্তৃত্বে অর্জিত সাফল্যের তালিকায় ২০১৬ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অর্জন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে বাউরেসের প্রকল্পের অর্থ বরাদ্ধ বৃদ্ধি, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষক বাস চালুকরণ ইত্যাদি রয়েছে। অপরদিকে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের উল্লেখিত অর্জনের বিষয়ে সোনালী দল দাবি করেছে, এ অর্জনগুলো শিক্ষক সমিতির অর্জন, কোন একক প্যানেলের অর্জন নয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক প্যানেলের মাধ্যমে উভয় প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় ক্ষমতাসীন এবং বিরোধীদলের শিক্ষকদের মতৈক্যের ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতার অভাবেও সাধারণ শিক্ষকদের জন্য কাজ করতে পারেন না নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিরা। ফলে দল মত নির্বিশেষে সাধারণ শিক্ষকদের উন্নয়নের বিষয়টি উপেক্ষিতই রয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। বিগত বছরে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন না হওয়ার জন্যও শিক্ষকদের রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তিকেই দায়ী করেছেন সাধারণ শিক্ষকরা। তাঁরা পদভিত্তিক অরাজনৈতিক নির্বাচন পদ্ধতির দাবি করেন। শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার দাবি জানান। এছাড়া ই-মেইলের মাধ্যমে প্রচারণা এবং ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থার কথা জানান। সাধারণ শিক্ষকদের মান মর্যাদা রক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা, আবাসন সমস্যার সমাধান ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে উভয় প্যানেলের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দাবি করেন।

জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম’ প্যানেলে সভাপতি পদে প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.এস. মাহফুজুল বারি এবং সহসভাপতি পদে কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী শাহানারা আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ পদে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসলাম আলী, সাধারণ সম্পাদক পদে কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ফার্ম স্ট্রাকচার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মো. রায়হানুল ইসলাম এবং সদস্য পদে অধ্যাপক ড. মোবারক আকতার মো. ইয়াহিয়া খন্দকার, অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন-২, অধ্যাপক ড. গোপাল দাস, অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

অপরদিকে, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সোনালী দল’ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে উদ্যানত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী, সহসভাপতি পদে ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম, কোষাধ্যক্ষ পদে ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক পদে ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল, যুগ্ম সম্পাদক পদে ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা সিদ্দিকী এবং সদস্য পদে অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান, অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন ও অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

শিক্ষক সমিতির বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্টু নির্বাচনে সকল শিক্ষকদের সহায়তা করার আহ্বান জানান।

 

Comments

comments