বড় মাছ চাষে লাখপতি ভেড়ামারার মুজাহার আলী

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
পরিশ্রম ও চেষ্টা করলে অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি অন্যদেরও ভাগ্য বদলে দেয়া যায়। এ সত্যকে প্রমাণ করেছেন মুজাহার আলী ওরফে শুকটা মালিথা। অক্লান্ত চেষ্টার মধ্য দিয়ে মৎস্য চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। ভেড়ামারা উপজেলায় একজন সফল মৎস্য চাষি হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছেন শুকটা। বড় মাছ উৎপাদন করে তিনি ভেড়ামারা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে অনেকবার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন।

জানা যায়, একটি পুকুরে মাছ চাষ করতে দেড় থেকে দুলাখ টাকার প্রয়োজন হয়। প্রতি মাসে ১৬-১৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এর আগে শুকটা মালিথা উপজেলার বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে পোনা ক্রয় করে লিজ নেয়া পুকুরে ছাড়ে। তার পুকুরে ও নদীতে বিভিন্ন জাতের রুই, কাতলা, মৃগেল, ব্রিগেড, সিলভার কার্প, কমনকার্প ও বাটা মাছ উৎপাদন করেন। বাজারে গিয়ে তাকে মাছ বিক্রি করতে হয় না। মাছ ব্যবসায়ীরা তার জলাশয়ে গিয়ে মাছ কিনে নিয়ে যায়। তিনি তাদের কাছে প্রতিদিন ৫-৬ মণ মাছ বিক্রি করে থাকেন।

শুকটা মালিথা ৫০-৬০ জন শ্রমিকের সঙ্গে রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে মৎস্য চাষ করে আসছেন। ১৯৭১ সাল থেকে তিনি মৎস্য চাষ করে আসছেন বলে তিনি জানান। প্রথম অবস্থায় মাত্র ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে মাছ চাষ খুব কষ্ট হলেও পরবর্তী সময় তার অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র কিছু দিনের ব্যবধানে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার জন্য মাত্র কয়েক বছরেই লাখ লাখ টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

১৫ বছর আগে শুকটা মালিথা এলাকার ২৪ জনকে নিয়ে কৃষি মৎস্য সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতি গড়ে তোলেন। সমিতির সভাপতি তার বড় ভাই মোতাহার আলী মালিথা। বছরে মাছ বিক্রি করে যে লাভ হয় তা ২৪ জন সদস্যের মাঝে সমপরিমাণে বণ্ঠন করা হয়। শুকটা মালিথা বলেন, উপজেলায় উৎপাদিত মাছ সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই। তিনি জানান, ধান ক্ষেতে মাছের চাষ করে কৃষক তার ভাগ্যকে পাল্টিয়ে দিচ্ছে। তবে ধান মৌসুমে ধানের আবাদে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বর্ষা মৌসুমে পানিতে মিশে একাকার হয়ে যায়। যার কারণে পানিতে বসবাসকারী মাছের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফলে মাছের ডিম ও পোনা নষ্ট হয়ে যায়। উৎপাদনের জন্য জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক অত্যধিক ব্যবহারের ফলে মাছ উৎপাদন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। নানা কারণে ৪ বছর আগে তিনি প্রায় ১৩ লাখ টাকা মাছ চাষে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতি হয়েছে। তার পরও তিনি মৎস্য চাষে হাল ছাড়েননি।

ভেড়ামারা উপজেলায় মাছের চাহিদা ১৬০০ টন। ঘাটতি রয়েছে ৩০০ টন। নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তর ও পরিত্যক্ত জলাশয়গুলো মাছ চাষের আওতায় আনা ও পুনর্খননের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি করাসহ মাছ চাষের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হলে দারিদ্র্য বিমোচনসহ মাছের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ভেড়ামারা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার।

Comments

comments