ক্লার্কের হাত ধরেই উত্থান নেপালি ইয়ংস্টার সন্দিপের

স্পোর্টস ডেস্ক:
অনেত রথি-মহারথি ক্রিকেটার বিক্রি হলেন না আইপিএলের নিলামে। ক্রিস গেইলের মত তারকা ক্রিকেটারের দল পেতে কষ্ট হয়, সেখানে নেপালের মত দেশের এক ১৭ বছর বয়সী তারকাকে কিনে নিয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। ২০ লাখ রুপির বিনিময়ে যখন নেপালি ইয়ংস্টার সন্দিপ লামিচানেকে কিনে নেয় দিল্লি, তখন থেকেই তোলপাড়! কেন, কী কারণে আইপিএলের কোনো ফ্রাঞ্চাইজি নেপালি তারকার পেছনে দৌড়াল! কিভাবেই বা তিনি উঠে এলেন এতটা পাদপ্রদীপের আলোয়।

নানা বিচার-বিশ্লেষণ। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের সঙ্গে লামিচানের ছবিও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অসি তারকার সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক কেন নেপালি এই ক্রিকেটারের! তার উঠে আসার পেছনেই বা ক্লার্কের ভূমিকা কী, এসবও এখন আলোচনার বিষয়বস্তু।

নানান তথ্যে উঠে আসছে, ক্রিকেটার হিসেবে উঠে আসতে সন্দিপ লামিচানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। যদিও পর্দার অন্তরালে থাকা ক্লার্কের দাবি তিনি কিছুই করেননি।

সন্দিপ লামিচানের নাম দিয়ে গুগলে সার্চ করলে মাইকেল ক্লার্কের সঙ্গে অনেক ছবিই ভেসে উঠবে। লামিচানের ফেসবুক পেজেও মাইকেল ক্লার্কের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। এসবই প্রমাণ করে সন্দিপ লামিচানে উঠে আসার পেছনে নিবিঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মাইকেল ক্লার্ক।

লামিচানে নিজেও স্বীকার করেছেন সেটা। তিনি বলেন বলেন, ‘মাইকেল ক্লার্ক আমার ক্রিকেটার জীবনের বড় প্রেরণা। হংকং সিক্সেসের হয়ে যখন থেকে তিনি আমাকে বল করতে দেখেছে তখন থেকেই আমার উপর নজর রেখেছিলেন। দারুণ মানুষ তিনি। যিনি আমাকে ক্রিকেটার ও মানুষ হিসেবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন।

জবাবে টুইটারের মাধ্যমে ক্লার্ক লেখেন, ‘আমি কিছুই করিনি। শুধু সে যখন বল করেছে হাসিমুখে দেখেছি।’

আইপিএল খেলোয়াড় নিলামের আগেও ক্লার্কের সঙ্গে কথা বলেছেন লামিচানে। নিজেই সে তথ্য জানান নেপালি তারকা। তিনি বলেন, ‘ক্লার্কের সঙ্গে কথা বলতে পারলে আমি চিন্তামুক্ত থাকি। সিডনি গ্রেড লিগে ওয়েস্টার্ন সাবার্বস ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ক্লার্কের নেতৃত্বে খেলতে পারাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার মতো খেলোয়াড়ের জন্য এটা অনেক কিছু।’

লামিচানের বিশেষত্ব তার লেগ ব্রেক বোলিং। কিন্তু গুগলিটাও তিনি ভাল করেন। গুগলি নিয়েও তার কাজ করার কথা জানিয়েছেন লামিচানের জাতীয় দলের কোচ রাজু খড়কা। লামিচানে বলেন, ‘যখন দিল্লি আমাকে ট্রায়ালে ডেকেছিল তখন আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম কোচের আমাকে পছন্দ হওয়ার ব্যাপারে। আত্মবিশ্বাসটাই আসল।’

লামিচানের ছোটবেলার আইডল শচীন টেন্ডুলকার এবং শেন ওয়ার্ন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে তাদের দু’জনকে দেখে বড় হয়েছি। আমার জন্য এই দু’জনই সেরা। এই দু’জন খেললে আমি কখনও মিস করি না। আমি সময় পেলে ওদের খেলার রেকর্ডিংও দেখি।’

Comments

comments