প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড মুমিনুলের

স্পোর্টস ডেস্ক:

লাকশান সান্দাকানের বলে কাভার-পয়েন্টে ঠেলে একটি রান। তিন অঙ্ক স্পর্শ। আরেকটি মাইলফলক, আবারও ব্যাট-হেলমেট উঁচিয়ে উদযাপন। সঙ্গে একটি অনির্বচনীয় স্বাদ! রেকর্ড বইয়ের এমন এক পাতায় লেখা হলো মুমিনুল হকের নাম, যেখানে আগে ছিল না বাংলাদেশের কেউ।

প্রথম ইনিংসে খেলেছেন ১৭৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। সেই তৃপ্তিতে ডুবে না গিয়ে মুমিনুল দ্বিতীয় ইনিংসেও উপহার দিলেন আরেকটি দারুণ সেঞ্চুরি। গড়লেন নতুন ইতিহাস। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসমান হিসেবে করলেন এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল। করলেন রোববার শেষ দিনেও।

১৮ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করেছিলেন মুমিনুল। দিনের শুরু থেকেই খেলেছেন দুর্দান্ত। লাঞ্চে গিয়েছিলেন ৭০ রানে। দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝি তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ১৫৪ বলে। ২৬ টেস্টে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি।

জোড়া সেঞ্চুরি তো ছিলই না, বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ফিফটির কীর্তি আগে ছিল কেবল ছয়টি। করেছেন চার জন।

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে হাবিবুল বাশার করেছিলেন ১০৮ ও ৭৬, ২০০১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচিতে করেছিলেন ৭১ ও ১০৮।

২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে তামিম ইকবাল করেছিলেন ৫৫ ও ১০৩, ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ১০৯ ও ৬৫।

২০১০ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে সাকিব আল হাসান করেছিলেন ৮৭ ও ১০০। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ইমরুল কায়েস করেছিলেন ৫১ ও ১৫০।

জোড়া সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তির আগেই মুমিনুল উঠেছেন আরও একটি উচ্চতায়। এক টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেছেন তামিম ইকবালকে।

২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টের প্রথম ইনিংসে তামিম করেছিলেন ২৫, দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৬। দুই ইনিংস মিলিয়ে তামিমের ২৩১ রান ছিল এক টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এবার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানের সময়ই মুমিনুল ছাড়িয়ে যান তামিমকে।

এক টেস্টে দুইশর বেশি রান আগেও একবার করেছেন মুমিনুল। ২০১৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই জহুর আহমেদ চৌধরী স্টেডিয়ামেই করেছিলেন ১৮১ ও অপরাজিত ২২, মোট ২০৩ রান।

বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে দুইশ রান করতে পেরেছেন আর কেবল চারজন। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে মোহাম্মদ আশরাফুল করেছিলেন ১৯০ ও অপরাজিত ২২। ওই টেস্টেই মুশফিকুর রহিম করেছিলেন ২০০।

২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ইমরুল কায়েস করেছিলেন দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০১ (৫১ ও ১৫০)। গত বছরের জানুয়ারিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে সাকিব করেছিলেন ২১৭।

এবার মুমিনুলের হাত ধরে রচনা হলো নতুন অধ্যায়ের।

Comments

comments