টাঙ্গাইলে সাড়া ফেলেছে সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে রবি মৌসুমে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌচাষ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৌচাষিরা টাঙ্গাইলের সরিষা ক্ষেতের আশপাশে মধু সংগ্রহের জন্যে ভীড় করছেন।

এবছর জেলার বিভিন্ন স্থানে ৭ হাজারেরও বেশি মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন মধু চাষিরা। এখান থেকে সংগৃহীত মধু তারা বাজারে বিক্রি করে লাভবানও হচ্ছেন। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা আধুনিক না হওয়ায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানালেন তারা।

টাঙ্গাইলে চলতি মৌসুমে ২৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। জেলার সর্বত্র সরিষার আবাদের কারণে স্থানীয়রা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৌচাষিরা এবারও টাঙ্গাইলে মধু সংগ্রহের জন্য ভীড় করেছেন।

জেলার ১২টি উপজেলার মধুপুর ও কালিহাতী ব্যতিত অন্য ১০টি উপজেলায়ই সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌচাষিরা সারিবদ্ধ মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন।

মৌমাছিরা ঝাঁকে ঝাঁকে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌ বাক্সে জমা করছে। আর মৌচাষিরা বাক্সে জমা হওয়া মধু প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ওই মধু ছড়িয়ে পড়ছে দেশ থেকে বিদেশেও।

মাত্র কয়েক বছর আগেও টাঙ্গাইলের সরিষা চাষিরা ফলন কম হবে এই ধারণায় সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ বাক্স স্থাপনে বাধা দিতেন। জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তাদের সে ধারণা পাল্টেছে। এখন মৌ বাক্স স্থাপনে বাধা না দিয়ে বরং উৎসাহ যোগাচ্ছেন স্থানীয়রা।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বাসালিয়া গ্রামে মধুচাষ করতে আসা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার নিত্যানন্দ মণ্ডল বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হলেও এবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে একমাস দেরিতে মধু সংগ্রহ শুরু করতে হয়েছে। এবছর তার তিন টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলার পাথরঘাটায় মৌচাষ করতে আসা সাতক্ষীরার ইসহাক মিয়া জানান, তিনি গাজিপুরে খামারের কর্মচারি হিসেবে মধু চাষ শুরু করেন। ২০১৫ সালে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫০টি ফ্রেম (মৌ বাক্স) দিয়ে নিজেই মধু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২৬টি কলোনি (মৌ বাক্সের সারি) আছে। প্রতি বাক্স থেকে মৌসুমে সর্বোচ্চ ৭০ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, মধু উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এবছর জেলায় ২৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলায় সাত হাজারের বেশি মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে।

সরিষায় ফুল থাকা পর্যন্ত এসব বাক্সে মধু সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে। আগামীতে মৌচাষির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সব ধরনের সহেযোগিতান প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ও ক্রেতাদের কাছে মধুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মৌচাষিদের প্রযুক্তিগত উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া গেলে দেশে যে পরিমাণ মধু উৎপাদন হবে, তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আব্দুর রাজ্জাক।

Comments

comments