বাকৃবিতে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস পালিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে “স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস পালন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাকৃবি শাখা।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) বিকাল সাড়ে চারটায় দিবসটি স্মরণ করে একটি মিছিল বের করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি থেকে শুরু হয়ে জব্বারের মোড়, কে.আর মার্কেট এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে এসে শেষ হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাকৃবি শাখা সাধারণ সম্পাদক গৌতম করের সঞ্চালনায় মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি জুনায়েদ হাসান এবং সভাপতি রাফিকুজ্জামান ফরিদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “১৯৮৩ সাল ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের কুখ্যাত মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে শহীদ হন জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দীপালি সাহা সহ ১১জন ছাত্র যুবক। সেদিন থেকে এ দিনটি “স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

তৎকালীন মজিদ খান শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছিল, “শিক্ষাব্যায়ের ৫০ ভাগ ছাত্রদের দিতে হবে। রেজাল্ট খারাপ থাকলেও ৫০ ভাগ বেতন দিলে ভালো বিষয় নিয়ে পড়তে পারবে।” জাফর, জয়নাল, দীপালী সাহার আত্মদানে শাসকশ্রেণী এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে পারেনি ঠিকই কিন্তু আজো শিক্ষাব্যয় ক্রমাগত বাড়িয়ে মানুষের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষার নৈতিকতাকে ধ্বংস করা পরিকল্পিতভাবে।

স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবসের ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এদেশে আমদানি করা হয়েছে “ভ্যালেন্টাইন ডে”। এর মাধ্যমে মানুষের সহজাত ভালোবাসার আবেগকে ব্যবসার পণ্য করা হচ্ছে। মানুষকে সমাজ বিচ্ছিন্ন করে আরো বেশি আত্মকেন্দ্রিক ও ভোগসর্বস্ব করে তোলা হচ্ছে। তারা স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবসের চেতনায় মানুষের শিক্ষা,সংস্কৃতি,মনুষ্যত্বের উপর আনিত সকল আক্রমণের বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষকসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান।

Comments

comments