হার্ট অ্যাটাক ও স্মৃতিভ্রংশ থেকে রক্ষা করে আলু

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

আলু অনেক সাধারণ, কিন্তু স্বাস্থ্যগুণে অনন্য একটি খাবার। বলা হয়, কেউ যদি সারা জীবন শুধু আলু খেয়েই বেঁচে থাকেন, তাহলেও তিনি অনেক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিয়মিত আলু খেলে একদিক থেকে যেমন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে, অন্যদিকে তা স্মৃতিভ্রংশ থেকেও সুরক্ষা দিতে সক্ষম। খবর ডেইলি মেইল।

স্কটল্যান্ডের জেমস হাটন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডেরেক স্টুয়ার্ট ও তার সহকর্মীরা সম্প্রতি আলুর নানা পুষ্টিগুণ নিয়ে দুটি ভিন্ন গবেষণা চালান। গবেষণা দুটিতে উঠে আসা তথ্য ৬০ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে সন্নিবেশিত হয়। ডেরেক স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আলু নিয়ে যতগুলো গবেষণা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি, প্রতিটিতেই এর নানা ধরনের পুষ্টিগুণের বিষয়টি উঠে এসেছে। যদি কেউ সারা জীবন শুধু একটি খাবারই খেয়ে থাকতে চান, তাহলে আলু তার জন্য আদর্শ। শুধু আলু খেয়েই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব। এ কথা বলার মতো উপযুক্ত শস্য আর খুব একটা নেই।’

আগের কিছু গবেষণার উদ্ধৃতি টেনে ডেরেক স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আলু হলো অসংখ্য ম্যাক্রো ও মাইক্রো মিনারেলের এক আদর্শ উৎস। (অথচ আলুকে উপেক্ষা করে) রীতিমতো পয়সা খরচ করে মানুষ এসব মিনারেলের সাপ্লিমেন্ট কেনে। এছাড়া ক্যারোটিনয়েড ও পলিফেনলের মতো উপকারী রাসায়নিক উপাদানেরও উৎস আলু। এর মধ্যে আঁশজাতীয় খাদ্য উপাদানও রয়েছে প্রচুর।’

তিনি আরো বলেন, ‘বড় এক জনগোষ্ঠীর ওপর আলুর প্রভাব নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আমরা দেখতে পেয়েছি, খাদ্যতালিকায় মাংসের বদলে আলু ও শাকসবজি যোগ করা হলে তা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। ভিন্ন আরেকটি গবেষণা চালিয়ে আমরা দেখেছি, বয়স্কাবস্থায় বেশি করে আলু খেলে তা মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্মৃতিভ্রংশ রোধে ভূমিকা রাখে।’

প্রতিবেদনে উঠে আসে, আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, বি৬ ও বি১৯ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে গবেষকদের ভাষ্য হলো, শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, নানা পুষ্টিকর ও উপকারী রাসায়নিক উপাদানের উৎস হিসেবেও আলুর গুণাবলি আমাদের নতুন করে বিবেচনা করে দেখা উচিত। ভিটামিন ও মিনারেলের উৎস হিসেবে এতদিন পর্যন্ত ফলমূল, মাংস ও শাকসবজির তুলনায় আলুকে পাত্তাই দেয়া হয়নি। এটা ভুল। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার পাশাপাশি নানা পুষ্টিগত উপকারিতা পেতে হলে আলুকে আমাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতেই হবে। আলুর চামড়া, বিশেষ করে জার্সি রয়েল জাতের আলুর চামড়া সবচেয়ে বেশি পুষ্টিকর।

 

প্রতিবেদনটি এখন পর্যন্ত কোনো জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।

Comments

comments