হাবিপ্রবিতে হাইড্রোসেফালাস আক্রান্ত বাছুরের সফল অস্ত্রোপচার

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে এ হাইড্রো সেফালাস আক্রান্ত একটি বাছুরের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। ডিভিএম এর ডিন ও মেডিসিন সার্জারি ও অবস্টেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হকের নেতৃত্বে এ অপারেশনটিতে ৫ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম কাজ করে।

টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক ইসলাম,সহযোগী অধ্যাপক ডা. বেগম ফাতেমা জোহরা, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. উম্মে কুলসুম রিমা।

এছাড়া সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আসাদুজ্জামান জেমি, মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও ডিভিএম দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

হাইড্রোসেফালাস বা ওয়াটার হেড এর বাংলা করলে অর্থটা দাঁড়ায় “মাথায় পানি জমা”। এটি একটি জন্মগত সমস্যা। গর্ভাবস্থায় কিছু ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু দ্বারা ভ্রূণ আক্রান্ত হলেই প্রধানত এটি হয়ে থাকে। অনেক সময় জেনেটিক কারণেও এটি হয়। রোগটি মানুষ, গরু, কুকুর, মুরগি ইত্যাদিতে হয়ে থাকে।

মাথার করোটির হাড় সঠিকভাবে তৈরি না হওয়ার কারণে মস্তিষ্কের তরল পদার্থ মাথার সামনের অংশে জমা হয় এবং সেখানকার চামড়া ধীরে ধীরে ফুলে গিয়ে গম্বুজাকার ধারণ করে।

পরবর্তীতে মস্তিষ্কে চাপজনিত কারণে রোগী মারা যায়। এর একমাত্র চিকিৎসা হলো শল্যবিদ্যার দ্বারা একে ঠিক করা। তবে সরাসরি ব্রেইনের সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় এটি একটি সময়সাপেক্ষ, জটিল এবং স্পর্শকাতর অস্ত্রোপচার। রোগীর মারা যাওয়া হার অনেক বেশি।

প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক এই রোগের কারণ সম্পর্কে বলেন, “জন্মের পূর্বে অর্থাৎ মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় মাথার খুলিতে আঘাত লাগা থেকে এমন হতে পারে অথবা কোনো কারণে মাথায় ছিদ্র থাকলে এই ‘হাইড্রোসেফালাস রোগ সৃষ্ঠি হতে পারে হতে পারে।”

এ রোগে আক্রান্ত পশুর মালিক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমার গরুটি সুস্থ আছে। হাবিপ্রবির শিক্ষক ও ছাত্রদের জন্যই আমার গরুটি বিনা টাকায় ভালোভাবে ফেরত পেয়েছি”।

Comments

comments