মাগুরায় উচ্চফলনশীল ‘বিনা মসুর-৮’ আবাদে বাজিমাত

মাগুরা প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) মসুর ডালের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। মসুরের এই নতুন জাতের নাম ‘বিনা মসুর-৮’। কম সার ও সেচ প্রয়োগে এবং স্বল্প সময়ে এ ডালের ফলন ঘরে তুলে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন মাগুরার চাষিরা। এদিকে সাধারণ মসুরের চেয়ে ফলন দুই থেকে তিনগুণ বেশি হওয়ায় চাষিদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে মসুরের এই নতুন জাত। স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মাগুরা বিনা উপকেন্দ্র অফিসের সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে মসুর ডালের যে চাহিদা তার মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ উৎপাদিত হয় দেশে। এ কারণে প্রতি বছর ডাল আমদানি করতে হয়। ‍কিন্তু উচ্চ ফলনশীল বিনা-৮ জাতের মসুর ডালের চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা একভাগেরও নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব।

নতুন জাতের এ মসুর ডাল চাষের ব্যাপারে সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক আশুতোষ বলেন, ‘আমি এক একর জমিতে বিনা-৮ জাতের মসুর চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছি। আমার এক একর জমিতে ৪০ মণ মসুর ফলেছে যা সাধারণ জাতের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।’

এ ব্যাপারে মাগুরা বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ সম্পা ঘোষ বলেন, ‘এবছর জেলায় ৩৬ হেক্টর জমিতে বিনা- ৮ জাতের মসুর চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে দুই থেকে সোয়া দুই টন মসুর উৎপাদিত হয়েছে। আমাদের দেশের প্রচলিত জাতের মসুর চাষে প্রতি হেক্টরে ফলন হয় সর্বোচ্চ এক টন।’

সম্পা ঘোষ আরও বলেন, ‘সাধারণ জাতের মসুর চাষে যেখানে সময় লাগে ১১৫-১২০ দিন সেখানে বিনা-৮ এর জীবনকাল মাত্র ৯০ থেকে ৯৫ দিন। প্রচলিত জাতের চেয়ে বিনা-৮ জাতের মসুর চাষে সেচ ও সার কম লাগার পাশাপাশি রোগ-বালাইও কম হয়। যেকারণে বিনা-৮ মসুর চাষে খরচও অনেক কম। অন্যদিকে কম জীবনকাল হওয়ায় বিনা মসুর চাষ করে একই জমিতে একটি বাড়তি ফসল চাষ করা সম্ভব।’

বিনা’র ময়মনসিংহ শাখার উদ্ভিদ ও প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিনা-৮ এর উদ্ভাবক ড. স্নিগ্ধা রায় সম্প্রতি মাগুরা সদরের মঘি ও রামনগর গ্রামে আয়োজিত মাঠ দিবসে ফসল পরিমাপ শেষে জানান, আমাদের বাৎসরিক ডালের চাহিদা ২৫ লাখ মেট্রিক টন।সেখানে দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ৮ লাখ মেট্রিক টন। বাকি ১৭ লাখ মেট্রিক টন ডাল বিদেশ থেকে আমাদানি করতে হয়। সারাদেশে যদি বিনা-৮ জাতের মসুর ডালের চাষ-পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে বিদেশ থেকে ডাল আমদানির নির্ভরতা কমানো যাবে এবং একসময় বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশ থেকে আমাদের আর ডাল আমদানি করতে হবে না।

জানা যায়, ইকাডো ইফাদ প্রকল্পের আওতায় মাগুরাসহ তিন জেলায় বিনা-৮ জাতের মসুর চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এ তিন জেলা থেকে সংরক্ষিত বিজ দিয়ে সারাদেশে বিনা-৮ মসুরের চাষ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Comments

comments