বাংলাদেশের সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসলের পদত্যাগ

স্পোর্টস ডেস্ক:
দলের সঙ্গে নিদাহাস ট্রফিতে ছিলেন না বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসল। সদ্য সমাপ্ত এই ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সূত্রে জানা যায়, বাধ্যতামূলক ছুটিতে আছেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছ, পদত্যাগ করেছেন হ্যালসল।

পারিবারিক কারণ দেখিয়ে বিসিবিতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এই জিম্বাবুইয়ান কোচ। বিসিবিও তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে।

হ্যালসলের পদত্যাগ নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘রিচার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। পারিবারিক কারণে সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে তার পরিবারের কাছকাছি থাকতে চায়, বিশেষ করে তার অসুস্থ বাবার কথা চিন্তা করে। বোর্ড তার ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছে।’

‘রিচার্ড দীর্ঘ চার বছর বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ দলের অনেক সাফল্যেরও অংশীদার তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদানের জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ। তার সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করছি আমরা।’

ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও শ্রীলঙ্কা সিরিজে প্রধান কোচ ছাড়াই খেলেছে বাংলাদেশ। টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদ নিয়ে প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। পাশাপাশি দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন হ্যালসল। কিন্তু নিদাহাস ট্রফিতে তাকে দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা পাঠায়নি বিসিবি। বিসিবির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছিলেন, ছুটিতে আছেন হ্যালসল।

হ্যালসলকে যখন ছুটিতে পাঠানো হয়, তখন ত্রিদেশীয় সিরিজ ও শ্রীলঙ্কা সিরিজে হেরে বাংলাদেশ দলের অবস্থা বেশ কোণঠাসা। কাজেই প্রশ্ন উঠেছিল, এমন সময়ে হ্যালসল ছুটিতে কেন?

সেই ব্যাপারে সুজন বলেছিলেন, ‘হ্যালসল আর সহকারী কোচ নন, বিষয়টা এমন নয়। রিচার্ড হ্যালসল এখনো আমাদের সহকারী কোচ। হ্যালসল এই সফরে দলের সঙ্গে থাকছেন না। আপাতত তিনি ছুটিতে আছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে আমাদের কথা চলছে। যদি তা হয়, সে সময় তিনি ক্যাম্পে যোগ দেবেন।’

তবে ভেতরের খবর হচ্ছে, ক্রিকেটাররা অখুশি ছিলেন হ্যালসলের ওপর। এমনকি বিসিবি সভাপতির কাছে তার নামে নালিশও করেছিলেন ক্রিকেটাররা। তখনই বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয় হ্যালসলকে দলের সঙ্গে নিদাহাস ট্রফিতে না পাঠানোর।

শুধু তাই নয়, আরও কয়েকটি অভিযোগ উঠেছিল হ্যালসলের বিরুদ্ধে। ক্রিকেটারদের ভুল তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে কয়েকজনকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পেছনেও কলকাঠি নেড়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে মুশফিকুর রহিমের ফিল্ডিংয়ের জায়গাও হ্যালসলই ঠিক করে দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলার সময় কারো নাম প্রকাশ না করলেও কোচিং স্টাফের এক সদস্যের দিকেই অভিযোগের তীর ছুড়েছিলেন মুশফিক।

সব মিলিয়ে বোর্ডের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের অসন্তুষ্টি ছিল হ্যালসলের ওপর। তা বুঝতে পেরেই পদত্যাগ করেছেন হ্যালসল। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৬-তে পদোন্নতি পেয়ে নিয়োগ পান বাংলাদেশের সাবেক কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের সহকারী কোচ হিসেবে। বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কিন্তু তার আগেই হ্যালসল ইতি টানলেন তার কোচিং ক্যারিয়ারের বাংলাদেশ অধ্যায়ে।

Comments

comments