এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স চ্যালেঞ্জ ও ব্যাকটেরিওফায: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

ড. মাছুদুর রহমান:
বর্তমান সময়ের জন্য সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। ধীরে ধীরে আমরা এমন এক যুগের দিকে এগুচ্ছি যখন দেখা যাবে কোন এন্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। যে কোন সাধারণ রোগে মহামারী আকারে মানুষ এবং প্রাণী মারা যাচ্ছে। আর এই এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, এন্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহারের কারণে তৈরি হচ্ছে যা প্রাণীদেহ থেকে মানুষের দেহেও প্রবেশ করছে। তাই এই বিষয়ে এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আর এ বিয়য়টিকে মাথায় রেখে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এন্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের প্যাথলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মাছুদুর রহমান কয়েকজন মাস্টার্স শিক্ষার্থীকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২৪-২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত ২৪তম বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (বিএসভিইআর) এসকন ২০১৮ তে প্যাথলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নূরজাহান ইয়াসমিন রুনা বেস্ট ওরাল প্রেজেন্টেটর হিসেবে পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি প্রফেসর ড. মোঃ মাছুদুর রহমান এর তত্বাবধানে এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. মনিরা নূর এর সহ- তত্বাবধানে গবেষণা কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তার কাজটি ছিল এন্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে ব্যাকটেরিওফায এর ব্যবহারের উপর। অনেক খামারী তাদের প্রাণীর দেহ বৃদ্ধির জন্য এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য কম মাত্রায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করে থাকেন। যার ফলে প্রাণী দেহে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দেখা দিচ্ছে এবং পরবর্তীতে তা প্রাণী দেহ থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করছে এবং মানুষের দেহেও এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর তাই এন্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে ব্যাকটেরিওফায ব্যবহার করা যেতে পারে।

তাদের গবেষণা ফলাফল থেকে দেখা যায় ব্যাকটেরিওফায ব্যবহারের ফলে প্রাণীর দেহ বৃদ্ধিতে কোন সমস্যা হয় নি বরং বৃদ্ধি ত্বরাণিত হয়েছে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস ইন্টেসটাইনে প্রাণীর ক্ষতিকর দুটি ব্যাকটেরিয়া ই কোলি এবং সালমোনেলা এর বৃদ্ধি কমিয়ে দিয়েছে। তাদের গবেষণার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ব্যাকটেরিওফায এন্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন। এই গবেষণা প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (SAURS)। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষকগণ এ কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করে তাদের গবেষণা কাজ উপস্থাপন করেন। এছাড়াও ভারত ও নেপালের গবেষকগণ এ কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের গবেষণা কাজ উপস্থাপন করেন। মোট ৫৩ টি ওরাল প্রেজেন্টেশন এর মধ্যে নূরজাহান ইয়াসমিন রুনা বেস্ট দুই প্রেজেন্টরের মধ্যে জায়গা করে নেন।

এ বিষয়ে নূরজাহান ইয়াসমিন রুনা বলেন, আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত বেস্ট নির্বাচিত হওয়ায়। আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমার শ্রদ্ধেয় গবেষণা সুপারভাইজার প্রফেসর ড. মো. মাছুদুর রহমান স্যার, কো-সুপারভাইজার ড. মনিরা নূর ম্যাডাম এবং আমার সকল শুভাকাংখীদের যাদের সহযোগিতায় আমি এই অর্জন করতে পেরেছি। আমি এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের উপর ভবিষৎতে আরও গবেষণা চালিয়ে যেতে চাই।’

এ বিষয়ে প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাছুদুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার বিভাগ থেকে ২৪তম বিএসভিআর এসকন ২০১৮ তে একটি পোস্টার ও দুটি ওরাল প্রেজন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে তাঁর তত্বাবধানে অত্র বিভাগে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের উপর আর ৩ টি গবেষণা প্রকল্প চলমান রয়েছে যার আর্থিক সহয়তা দিচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (SAURS), বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় (MOST)। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই প্রকল্প গুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে প্রকল্পগুলোর ফলাফল এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

___________________________
লেখক:
ড. মাছুদুর রহমান
প্রফেসর, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

.

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সবুজবাংলাদেশ24.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে সবুজবাংলাদেশ24.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।]

Comments

comments